দীর্ঘ ছয় বছর পর আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। এরই মধ্যে প্রার্থিতা এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। শুরু হয়েছে প্রচার-প্রচারণাও। এবারের নির্বাচনে ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী রয়েছেন ৬২ জন।ডাকসুর এ সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন, কমনরুম, আন্তর্জাতিক, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, গবেষণা-প্রকাশনা, ক্রীড়া, ছাত্র পরিবহন, সমাজসেবা, স্বাস্থ্য-পরিবেশ, মানবাধিকার-আইন বিষয়ক ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টসহ অন্যান্য সম্পাদক পদেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী রয়েছেন।১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতৃবৃন্দ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তোলেন। এর প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে ১৯২০ সালের ১৮ মার্চ ভারতীয় আইন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯২০’ পাস হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয় পরের বছর ১ জুলাই ১৯২১ তারিখে।১৯২২ সালের ১লা ডিসেম্বর কার্জন হলে অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের একটি সভায় ১৯২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ’ নামে একটি ছাত্র সংসদ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯২৫ সালের ৩০ অক্টোবর সংসদের সাধারণ সভায় খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিষদ অনুমোদন করলে তা কার্যকর হয়।১৯২৪-২৫ সালে প্রথম ডাকসুর ভিপি হিসেবে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও জিএস হিসেবে যোগেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত মনোনীত হন। এ সময় ভিপি ও জিএসগণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মনোনীত হতেন।১৯৪৬-৪৭ সেশনে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন ফরিদ আহমেদ। ১৯৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত প্রথম জনসভায় তিনি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ও পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম করার লিখিত প্রস্তাব পেশ করেন এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।পরবর্তীতেও পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিরাট ভূমিকা পালন করেছিলেন ফরিদ আহমেদ। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এম.এল.এ) এবং ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হয়ে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের চীফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পুনরায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তাছাড়া ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের সদস্য হিসেবে আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলনে অংশগ্রহণে ভূমিকা রাখেন।১৯৪৭-৪৮ সালে সহ-সভাপতি হন জগন্নাথ হলের অরবিন্দ বসু এবং সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম আযম (রাজনীতিবিদ)। এই সংসদও পরের বছরে থেকে যায় এবং কোনো এক সময়ে গোলাম আযমের বদলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন এ. জেড. খান (পরবর্তীতে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক)। তারপর ১৯৫০ সালে তাদের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ গঠনের আর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।তবে, ১৯৫৩ সালে আমূল পাল্টে যায় ডাকসু। এ সময় পরিবর্তন করা হয় এর গঠনতন্ত্র। অধ্যাপক আনিসুজ্জমান লিখেন, ‘১৯৫৩ সালে আমরা অনার্সের প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেন। এবার নাম হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, ইংরেজি নামই তখন চালু, নামের আদ্যক্ষর দিয়ে ডাকসু।’গঠনতন্ত্র সংশোধনের পর প্রথমবারের মতো এবছরই শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবছর ভিপি নির্বাচিত হন এস এ বারী এবং জিএস হিসেবে নির্বাচিত হন জুলমত আলী খান।১৯৬২ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে ভিপি এস এ বারী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের তিনি অন্যতম সংগঠক। এ সময় তিনি মওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) রাজনীতিতে যোগ দেন।১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মুজিববাহিনীর ডালিমগা ক্যাম্পের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ভারতীয় শরণার্থী শিবিরে ত্রাণকার্যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পর ১৯৭৭ সালে মওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। পরবর্তী ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন দিনাজপুর-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং জনশক্তি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।১৯৫৪-৫৫ সালে ভিপি নির্বাচিত হন নিরোদ বিহারী নাগ এবং জিএস ছিলেন আব্দুর রব চৌধুরী। পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এদের মধ্যে নিরোদ বিহারী নাগের তেমন একটা আলোচনায় না এলেও আব্দুর রব চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ছিলেন ডাকসু থেকে উঠে আসা এই নেতা। ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালের ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।তবে ২০০১ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং সেখানেও উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম দু’জন রাজনৈতিক নেতা হচ্ছেন রাশেদ খান মেনন এবং মতিয়া চৌধুরী। ১৯৬৯ সালের গণঅভুত্থান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দু’জন সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এদের দাপুটে ভূমিকা দেখা গেছে। ১৯৬৩-৬৪ সালে ছাত্র ইউনিয়নের প্যানেল থেকে ডাকসুর ভিপি এবং জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এই দু’জন।বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হলো তোফায়েল আহমেদ। ১৯৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলত খাঁ-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে ভিপি নির্বাচিত হন এই তোফায়েল আহমেদ।এছাড়া ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১০ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগরে ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ’ ও ১৭ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার প্রতিষ্ঠার তিনি অন্যতম সংগঠক এবং ১৯৭২-এ বাংলাদেশ গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত ও বলবৎকৃত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া’য় তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।তোফায়েল আহমেদ পরবর্তীতে নয় বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর পদ লাভ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদের একজন সদস্য। ২০০৮-এ সংসদে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ডাকসুর ভিপি পদে ছিলেন আ স ম আব্দুর রব। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ তিনিই প্রথম বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন।স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর আ স ম আব্দুর রবের নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। তিনি ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাসদ আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলে তিনি শেখ হাসিনার প্রথম মন্ত্রিসভায় নৌপরিবহন মন্ত্রী এবং পরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন।স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে প্রথম ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ডাকসুর ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে শুরুর দিক থেকে সেলিম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০১২ সালে পার্টির দশম কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচিত হন।এরপর একরকম স্থবির হয়ে পড়ে ডাকসুর কার্যক্রম। বিশেষ করে ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সামরিক শাসন জারি এবং এর আগে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।তবে ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কাঠামো তৈরি হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৭৯ সালে আবার ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবার প্রথমবারের মতো ছাত্রলীগের বাইরে গিয়ে অন্য ছাত্রসংগঠন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৭৯-৮০ সেশনে পুনরায় নির্বাচন হলে ভিপি নির্বাচিত হন জাসদ ছাত্রলীগের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি পরেরবার অর্থাৎ ১৯৮০-৮১ সালে পুনরায় ভিপি নির্বাচিত হন।মান্না ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ গঠন করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এরপর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ২০০৭ সালে আলোচিত এক এগারো সরকারের সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর পদ থেকে বাদ পড়ে যান। পরবর্তীতে তিনি নাগরিক ঐক্যের নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। বর্তমানে তিনি এই দলের সভাপতি হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।১৯৮২-৮৩ সালে বাসস ছাত্রলীগ থেকে ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন মোঃ আখতারুজ্জামান এবং জিএস হন জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু।১৯৮২ সালে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করার পর ১৯৮৮ পর্যন্ত ডাকসুর নির্বাচন হয়নি। ১৯৮৯-৯০ সালে ডাকসুতে ভিপি হন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, জিএস হন মুশতাক হোসেন। ১৯৯০-৯১ সালে ভিপি হন আমানউল্লাহ আমান এবং জিএস হন খায়রুল কবির খোকন।স্বাধীনতার পর থেকে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে একধরনের অনীহা দেখা যায়। যার ফলে ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ১৯ বার নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৭ বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।১৯৯১ সালের ১৮ জুন ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সহিংসতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।১৯৯৬ সালে অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী উপাচার্য হওয়ার পর একাধিকবার ডাকসু নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৯৮ সালেও নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি। ২০০৫ সালেও একবার ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছিল তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই নির্বাচনটিও অনুষ্ঠিত হয়নি।এরপর কয়েক দফা দাবি ও বেশ কয়েকবার আন্দোলনের পর ২০১৯ সালে দীর্ঘ ২৮ বছর আবারও অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন। সেবার ভিপি নির্বাচিত হন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ মনোনীত প্রার্থী নুরুল হক নুর এবং জিএস নির্বাচিত হন ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) মনোনীত প্রার্থী গোলাম রব্বানী।নুরুল হক নুর বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ছাত্র আন্দোলন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)।ইতিহাস বলে, ডাকসুর অনেক নেতা পরবর্তীতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। নির্বাচনের ফল কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও এর প্রতিধ্বনি শোনা যায়।

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
কুসিকে মতবিনিময় সভা, নাগরিক অধিকার ফোরামের ১০ দফা সুপারিশ
কুসিকে মতবিনিময় সভা, নাগরিক অধিকার ফোরামের ১০ দফা সুপারিশ

কুমিল্লা নগরীর টেকসই উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরে সিটি করপোরেশন প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে নাগরিকদের Read more

ওসমান হাদির ভাই ওমরকে যুক্তরাজ্য মিশনে নিয়োগ
ওসমান হাদির ভাই ওমরকে যুক্তরাজ্য মিশনে নিয়োগ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব Read more

৫০০ সাংবাদিককে বরখাস্ত করছেন ট্রাম্প
৫০০ সাংবাদিককে বরখাস্ত করছেন ট্রাম্প

সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার (ভিওএ) প্রায় ৫০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউস দীর্ঘদিন Read more

বাকৃবিতে যথাযথ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত
বাকৃবিতে যথাযথ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) যথাযথ মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শোক Read more

তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি প্রত্যাহার, ফার্মগেটে যান চলাচল স্বাভাবিক
তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি প্রত্যাহার, ফার্মগেটে যান চলাচল স্বাভাবিক

তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানার মৃত্যুতে দোষীদের বিচারের দাবিতে দিনব্যাপী সড়ক অবরোধ করার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠকের আশ্বাসে Read more

হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান
হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ যে গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই কৌশলগত 'হরমুজ প্রণালি' দিয়ে যাতায়াতকারী Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন