বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে গত এক সপ্তাহে দফায় দফায় মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা ফিশিং ট্রলারসহ বাংলাদেশী ৫১ জেলেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। আটকের ১২ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে, অথচ একজন জেলেও আরাকান আর্মির জিম্মি দশা থেকে এখনো ফেরত আসতে পারেনি। এর মধ্যে গত ৪ দিনের ব্যবধানে ৪৬ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমার জলসীমায় তাণ্ডব চালানো আরাকান আর্মির সদস্যরা। এদিকে, আরাকান বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বেপরোয়া আচরণে সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশী জেলে ও ফিশিং ট্রলারের মালিকরা। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট ৫, ২৩ আগস্ট ১২, ২৪ আগস্ট ১৪, ২৫ আগস্ট ৭, সর্বশেষ ২৬ আগস্ট ১৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে ফিশিং ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বাংলাদেশ জলসীমায় দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পেরেছে বাংলাদেশী জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে দেশীয় জলসীমা অতিক্রম করেছে। এই ভুলের কারণে আরাকান আর্মির হাতে আটক হতে হচ্ছে জেলেদের। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট বিএন শাকিব মেহবুব জানান, সাগরে মাছ শিকার করতে বাংলাদেশী জেলেরা বারংবার সেদেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত হচ্ছে। জলসীমায় দায়িত্বরত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করার পরও জেলেরা সীমানা অতিক্রম করার কারণে এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজিবির রামু সেক্টর দপ্তরে দায়িত্বে থাকা কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, ওপার সীমান্তে জিম্মি থাকা বাংলাদেশী জেলেদের মুক্ত করতে মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বরাবরে চিঠি প্রেরণ করেছে বিজিবি। তিনি বলেছেন, আরাকান আর্মির হাতে অপহরণ নয়, বাংলাদেশী জেলেরা দেশীয় জলসীমার শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে, বিধায় জেলেরা উক্ত বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছে। জেলেরা সতর্কতা অবলম্বন করে মাছ শিকার করলে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলেও মন্তব্য করেন বিজিবির এই কর্মকর্তা।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
