গাজীপুর মহানগরে বাড়ছে অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ। আর এতে বৈধ গ্রাহকরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। কাশিমপুর ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় মধ্যরাতে সামান্য সময়ের জন্য গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনভর গ্যাস সংকট লেগেই আছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে চরম সংকট তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।গ্যাস সংকটে ভুক্তভোগী তিতাসের বৈধ গ্রাহকদের অভিযোগ, একদিকে নতুন অবৈধ গ্রাহক, অপরদিকে যেসব বাড়িতে বৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে, এমন অনেক গ্রাহক নিজের খেয়াল খুশি মতো গ্যাসের চুলার সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। একটি বৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে একাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিলেও দেখার কেউ নেই।ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব অবৈধ সংযোগের জন্য মাসিক ভাড়াও নিচ্ছে একটি মহল। গত কয়েক বছরে অসাধু ঠিকাদার ও গ্যাস দালালদের মিথ্যা প্রলোভনে মহানগরীর লাখ লাখ মানুষের কোটি কোটি টাকা গায়েব হয়েছে। সেই সঙ্গে অসাধু ঠিকাদার ও গ্যাস দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে গাজীপুরে গ্যাস সংকট অচিরেই মহাসংকটে রূপ নিতে পারে বলে জানান গ্রাহকরা।তবে গ্রাহকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের একাধিক কর্মকর্তা। তারা জানান, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরে অবৈধ আবাসিক গ্যাস গ্রাহকের সংখ্যা তাদের জানা নেই।তবে তিতাসের কয়েকজন ঠিকাদার জানিয়েছেন, নতুন গ্যাস সংযোগে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরে অবৈধ আবাসিক গ্যাস গ্রাহক সংখ্যা ৫০ হাজার বহু আগেই পেরিয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনাবাড়ী-কাশিমপুরের অধিকাংশ এলাকায় গত এক বছরে বহু নতুন বাসা-বাড়ি নির্মিত হয়েছে এবং হচ্ছে। মূলত গার্মেন্টস শ্রমিকদের ভাড়াটিয়া হিসেবে পাওয়ার আশায় এসব বাসা-বাড়ি নির্মিত হয়েছে।নতুন করে গড়ে উঠেছে এমন অসংখ্য টিনশেড, টিনশেড বিল্ডিংসহ বহুতল ভবনে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও অবৈধ সংযোগের জন্য সিটি করপোরেশনের অনুমোদন না নিয়েই পিচঢালাই রাস্তা কাটা হয়েছে।অভিযোগ আছে, এসব অবৈধ সংযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার, বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী লোকজন। এরা অবৈধ সংযোগে লাগিয়ে দিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ রাইজার। অনেকেই আবার বেশি গ্যাস পাওয়ার লোভে এসব সস্তা রাইজারে নানা ধরনের কেরামতিও করেছেন। ফলে দেখা দিয়েছে বিস্ফোরণসহ মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা। অথচ ভুক্তভোগী বৈধ গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করেও গ্যাসের আশায় থেকে অবশেষে চিড়ামুড়ি খেয়ে রাত পার করছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা ভাড়ার উদ্দেশ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাসা-বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কেউ জমি বিক্রি, কেউ বা বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এসব নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন।উক্ত বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড গাজীপুর আঞ্চলিক বিক্রয় ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রকৌশলী মোঃ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরে কতগুলো অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে, সেটা আমাদের জানা নেই।’তবে কেউ যদি অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে থাকে, তাহলে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
