দেশে তামাকের কারণে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায়। অর্থাৎ অস্বাভাবিক যত মৃত্যু আছে, যেমন সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু, হত্যাকাণ্ড ইত্যাদি একসঙ্গে যোগ করলেও তামাকের ফলে মৃত্যুর সমান নয়। বেসরকারি সংস্থা ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওরের (ডর্প) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। একই তথ্য দেন কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টের সভাপতি ড. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেনও।মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসি’র বাস্তবায়ন ও আর্টিকেল ৫.৩ প্রতিপালনে সরকারের কাছে প্রত্যাশা” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানায় তারা।সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ‘তামাকের কারণে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায়। এটি হচ্ছে আইনি রাস্তায় মৃত্যুর ব্যবসা। করোনা মহামারী নিয়ে সবাই আতঙ্কিত ছিল। কতশত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে মৃত্যু কমাতে। অথচ করোনা এ পর্যন্ত দেশে যত প্রাণ কেড়েছে, তামাক এক বছরেই তার চেয়ে বেশি প্রাণ কাড়ছে। এ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।’২০১৭-১৮ সালে একটি গবেষণা করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ওই সময় তামাক থেকে সরকার রাজস্ব পেত ২২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু তামাকের কারণে যে সাতটি রোগ হয়, তার পেছনে ওই বছর দেশের মানুষের খরচ হয়েছিল ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজস্ব আয়ের কথা বলা হলেও এখানে সামগ্রিকভাবে ব্যালেন্স ঋণাত্মক। জমির উর্বরতা নষ্ট, পরিবেশ তো বাদ থাকছেই।’ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়া পর্যালোচনার জন্য গঠিত উপদেষ্টা কমিটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের—যার মধ্যে তামাক কোম্পানিও রয়েছে—মতামত নিতে হবে। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফটিসি আর্টিকেল ৫.৩-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানান ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক।কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টের সভাপতি ড. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি লাখ লাখ অসুস্থও হয়। অথচ তামাক কোম্পানিগুলো মুনাফার আশায় মিথ্যা প্রচার করে বলছে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনী পাস হলে সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হারাবে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও ২০১৩ সালে সংশোধনের পর গত ১৮ বছরে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে সাড়ে ১২ গুণ। একই সঙ্গে ২০০৯-১৭ সালের মধ্যে তামাক ব্যবহার ১৮ শতাংশ কমেছে। এতে প্রমাণিত তামাক ব্যবহার কমলেও সরকারের রাজস্বে প্রভাব পড়ে না।’ডর্পের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পরিচালক (স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টর) ইকবাল মাসুদ।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
