সময়ের কণ্ঠস্বরে সংবাদ প্রকাশের পর ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চর বেলবানা গ্রামে পানিবন্দি দেড় শতাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন আকাশ মিয়া নামে মরিশাস প্রবাসী এক যুবক।মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকালে উপজেলার বানা মৌলভী আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। খাদ্য সহায়তা হিসেবে পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ পরিবারের মাঝে ৮০০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়।লাঠিতে ভর দিয়ে খাদ্য সহায়তা নিতে এসেছিলেন চর বেলবানা গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধা সাহেরা বেগম। এসময় তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে পানির মধ্যে বসবাস করছি। খুব অভাবের মধ্যে দিন কাটছে। আজ এখানে এসে চাল পেয়েছি। যা দিয়ে কয়েকদিন ভালোভাবে খেতে পারবো।’খাদ্য সহায়তা হাতে পেয়ে চর বেলবানা গ্রামের সাইফুর রহমান (৭৫) কথাও একই রকম। তিনি বলেন, ‘পানিবন্দি থাকার কারণে খুব সমস্যায় ছিলাম। ঘরে খাবারের চাল ছিল না। এখানে এসে চাল পেলাম। আমার খুব উপকার হয়েছে। শুনেছি, আকাশ মিয়া নামে এক প্রবাসী আমার মতো পানিবন্দি দেড় শতাধিক পরিবারকে চাল দিয়েছেন। আমরা তার জন্য অনেক দোয়া করি।’স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘আকাশ মিয়া নামে মরিশাস প্রবাসী এক ব্যক্তি আমার ওয়ার্ডের পানিবন্দি দেড় শতাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। তালিকা তৈরি করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’গত ২৩ আগস্ট দেশের প্রথম সারির নিউজ পোর্টাল সময়ের কণ্ঠস্বরে ‘এক চিলতে শুকনো জায়গা নেই, চারিদিকে জল থৈ থৈ’ এই শিরোনামে চর বেলবানা গ্রামের পানিবন্দি মানুষের দুঃখ-দুর্দ্দশা নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি মরিশাস প্রবাসী আকাশ মিয়ার নজরে আসলে পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি।মরিশাস প্রবাসী আকাশ মিয়া আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাকির মিয়ার ছেলে। তিনি মরিশাসের ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক।জানতে চাইলে মরিশাস প্রবাসী আকাশ মিয়া মুঠোফোনে জানান, ‘সময়ের কণ্ঠস্বরে প্রকাশিত একটি সংবাদের মাধ্যমে চর বেলবানা গ্রামের পানিবন্দি মানুষের দুঃখ-দুর্দ্দশার বিষয়টি জানতে পারি। পরে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
