গাজায় সাংবাদিক হত্যাকে ন্যায্যতা দেয়ার অভিযোগ তুলে রয়টার্স থেকে পদত্যাগ করেছেন কানাডীয় ফটোসাংবাদিক ভ্যালেরি জিঙ্ক। আট বছর ধরে ‘স্ট্রিংগার’ হিসেবে কাজ করা এই আলোকচিত্রী মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ঘোষণার সঙ্গে রয়টার্সের প্রেস কার্ড ভেঙে ফেলার ছবিও প্রকাশ করেন তিনি।তার ঘোষণাটি ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, শেয়ার দিয়েছেন, অসংখ্য মানুষ। জিঙ্কের অভিযোগ, রয়টার্স ইসরায়েলের প্রচারণা বিনা যাচাইয়ে প্রকাশ করে সাংবাদিক হত্যাকে বৈধতা দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন আল-জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরীফের হত্যাকাণ্ড।গত ১০ আগস্ট গাজায় ওই সাংবাদিক নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল দাবি করে, তিনি হামাসের সদস্য ছিলেন। এই ভিত্তিহীন দাবি রয়টার্স প্রকাশ করেছিল—যা জিঙ্কের মতে ইসরায়েলের মিথ্যা প্রচারণার অংশ। তিনি আরও জানান, শুধু আনাস আল-শরীফ নয়, সোমবারও আল-নাসের হাসপাতালে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে রয়টার্সের ভিডিওগ্রাফার হোসাম আল-মাসরিও ছিলেন। এই ধরনের “ডাবল ট্যাপ” হামলায় ইসরায়েল প্রথমে বেসামরিক স্থাপনায় বোমা ফেলে, পরে উদ্ধারকর্মী ও সাংবাদিকরা পৌঁছালে আবার হামলা চালায়।নিজের স্ট্যাটাসে ভ্যালেরি জিঙ্ক পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন। তার মতে, নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে শুরু করে রয়টার্স পর্যন্ত সব বড় সংবাদমাধ্যম ইসরায়েলের প্রচারণার বাহক হয়ে উঠেছে, যুদ্ধাপরাধকে আড়াল করেছে এবং নিজেদের সহকর্মীদের পরিত্যাগ করেছে। এতে করে গাজায় অল্প সময়ে যে সংখ্যক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, তা আধুনিক ইতিহাসের যে কোনো বড় যুদ্ধে নিহত সাংবাদিকদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।জিঙ্ক লিখেছেন, ‘আট বছর ধরে রয়টার্সে কাজ করে আমি গর্বিত ছিলাম। কিন্তু এখন এই প্রেস কার্ড গলায় ঝোলানো লজ্জা ছাড়া আর কিছু নয়।’ গাজার সাংবাদিকদের সাহস ও আত্মত্যাগকে তিনি ইতিহাসের সেরা সাংবাদিকতার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন এবং ভবিষ্যতে তাদের অনুপ্রেরণাকেই সামনে রেখে কাজ করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন।সূত্র: আনাদোলুএবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
