বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার আট বছর পার হলেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট পথ খুলে যায়নি। উল্টো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় নতুন করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ফেরাতে কক্সবাজারে আজ রবিবার (২৪ আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন।রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ এখন জান্তা সেনাদের হাত থেকে সরে গিয়ে আরাকান আর্মির দখলে। সেখানে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে নতুন করে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন রোহিঙ্গারা। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে। সীমান্তের ওপার থেকে রাতভর গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকনাফ সীমান্তে টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত মিয়ানমারের কুমিরখালী, শীলখালী ও সাইডং এলাকায় গোলাগুলি চলে। সীমান্ত ঘেঁষা চিংড়ি প্রজেক্টের শ্রমিকেরা আতঙ্কে সরে গেছে নিরাপদ স্থানে। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী লালু বলেন, দীর্ঘদিন পর আবারও সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেল। স্থানীয়রা ভয়ে কাজকর্ম ফেলে পালিয়ে এসেছে।উখিয়ার ক্যাম্পের নেতা মো. হোসাইন বলেন, রাখাইনে নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ফলে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা থামছে না। আমাদের স্বজনরাও বলছে, সীমান্তে অনেকেই জড়ো হয়েছে।বিজিবি জানিয়েছে, শুক্রবারই ৬২ জন রোহিঙ্গাকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে সীমান্তের ওপারে এখনও হাজারো মানুষ অপেক্ষায় আছে। টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, আমরা কাউকে ঢুকতে দিচ্ছি না। সীমান্তে দালাল চক্র সক্রিয়, তাদের ধরতে অভিযান চলছে।২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১৪ লাখের বেশি। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, শুধু ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেড় লাখ রোহিঙ্গা চোরাইপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা হাফেজ আহমদ বলেন, আমাদের গ্রাম এখন আর নেই। আরাকান আর্মি দখল করেছে। ফেরার মতো পরিবেশ কোথায়? অন্যদিকে নুরুল হাকিম জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠী সন্তানদের যুদ্ধে টেনে নিচ্ছে এবং পরিবারপ্রতি এক লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করছে।শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, দিন দিন প্রত্যাবাসন জটিল হচ্ছে। তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।এই সংকটের প্রেক্ষাপটে আজ কক্সবাজারের ইনানীর বে-ওয়াচ হোটেলে শুরু হলো তিন দিনের সম্মেলন ‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আলোচনার জন্য প্রাপ্ত বার্তা’। সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, কয়েক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক দূত, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতরা।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীব জানান, সম্মেলনে রোহিঙ্গারা সরাসরি নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা জানাবেন বিশ্বনেতাদের।প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এই আয়োজনে ৪০টি দেশের প্রতিনিধি এবং ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত অংশ নিচ্ছেন। কক্সবাজারের আলোচনার ভিত্তিতেই নিউইয়র্ক ও দোহায় পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অবস্থানপত্র তৈরি হবে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
