কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর মোড় ও বাজার এলাকায় বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে ভয়াবহ যানজট। ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য দোকানপাট, আর শৃঙ্খলা রক্ষার নামে কথিত লাইনম্যানদের চাঁদাবাজি—সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ পথচারী ও যানবাহন চালক।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশ থেকে দাউদকান্দি গৌরীপুর মোড় হয়ে উত্তরে চলে গেছে আঞ্চলিক মহাসড়ক, যা সংযুক্ত হয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দি, তিতাস, হোমনা, মেঘনা লিংক রোড, মুরাদনগর লিংক রোড এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকা ও কুমিল্লা জেলা সদরসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে যাতায়াতকারী মানুষের প্রধান যোগাযোগপথ এটি। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পণ্যবাহী পরিবহন এই রাস্তায় চলাচল করে থাকে।কিন্তু গৌরীপুর বাজার ও মোড়ে এসে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাটে পথচারীরা হাঁটার সুযোগ পান না, অন্যদিকে গাড়িগুলোও আটকে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ভুক্তভোগীরা জানান, এলাকায় ৫–৭ জন লাইনম্যান সেজে প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহন থেকে টাকা আদায় করে। টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে তর্কবিতর্ক চলতে থাকায় জ্যাম আরও দীর্ঘ হয়। জটের মধ্যে ডানের গাড়ি বামে, বামের গাড়ি ডানে ঘোরানোর কারণে পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টিম এলাকা দিয়ে যাতায়াত করলে তখন পুলিশ বা সেনা সদস্যদের অস্থায়ীভাবে জ্যাম নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা যায়। এমনকি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও মাঝে মাঝে এগিয়ে আসে। তবে স্থায়ী সমাধান হয় না। অভিজ্ঞ মহল ও ভুক্তভোগীদের মতে, ‘ঈমানদার প্রশাসনিক উদ্যোগ ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।’ কারণ, ফুটপাত দখল ও যানবাহন থেকে আদায়কৃত কোটি টাকা বিভিন্ন মহলে ভাগ হয়ে যায়।পথচারীদের মতামত অনুযায়ী, সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গাগুলো দখলমুক্ত করে প্রসস্থ করা হলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। নইলে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরে যাতায়াতকারী লাখো মানুষের দুর্ভোগ কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
