দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে টালমাটাল অবস্থায় পাঠদান চলছে গাজীপুরের কাশিমপুরের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নিয়ম অনুযায়ী সাতজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও, বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়েই চলছে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম।এদিকে বিদ্যালয়টিতে সরকারি অনুমোদিত শিক্ষক আছেন চারজন। তবে একজন চিকিৎসার জন্য ভারতে এবং আরেকজন প্রশিক্ষণে থাকায় কার্যত দুইজন শিক্ষককেই সামলাতে হচ্ছে সব ক্লাস।এমনকি শিক্ষক সংকটের কারণে বাচ্চাদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে- এমন অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। এছাড়াও ধীরে ধীরে স্কুল বিমুখ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরাও।এসময় রোকসানা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘সেই সকালে দুটি বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে আসি। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক সংকটের কারণে তেমন পড়ালেখা হচ্ছে না।’আর এতো করে বাচ্চারাও স্কুলে আসতে চায় না। তাই অতি দ্রুত স্কুলে যদি শিক্ষক সংকটের সমাধান হতো, তাহলে শিক্ষার্থীরা আর স্কুল বিমুখ হতো না।এছাড়াও স্কুলের তামিম, রকি ও তাহমিনা নামের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা জানান, ‘অন্যান্য বিদ্যালয়ে ৭ জন শিক্ষক থাকলেও আমাদের বিদ্যালয়ে মাত্র চারজন শিক্ষক।’সেখানেও আবার দুজন আছেন ছুটিতে, তাই দুজন শিক্ষক দিয়ে ঠিকমত আমাদের পড়ালেখা হচ্ছে না। স্যারেরা এক ক্লাসে পড়া দিয়ে অন্য ক্লাসে গেলে প্রায় সময় আমাদেরকে বসে থাকতে হয়। আর এ কারণে আমাদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে। তাই এটার অতি দ্রুতই সমাধান হওয়া দরকার। এমনকি আমাদের সামনে পরীক্ষা কেমনে কি করব বুঝতে পারতেছি না।জানা যায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ১৫ তারিখে প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান (মনির) অবসরে যাওয়ার পর থেকে নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন সহকারী শিক্ষক মিতু রানী বিশ্বাস, তিনিও বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ভারতে। ফলে এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সহকারী শিক্ষক মাকসুদা বেগম।এ বিষয়ে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মমতা মহসিনা সিদ্দিক বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি যেমন পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া যাচ্ছে না।’ঠিক আমরা যারা এখন কর্মরত শিক্ষক রয়েছি, আমাদের জন্য শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়াটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।অপরদিকে স্কুলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাকসুদা বেগম জানান, ‘আমাদের দুজন শিক্ষকের মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা চালিয়ে নেওয়াটা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।’ তবু কষ্ট হলেও চালিয়ে যাচ্ছি, কোন উপায় নেই। অতি দ্রুত প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণ হলে অনেক ভালো হতো। এ ব্যাপারে গাজীপুর সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহানা আফরোজ বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে রিপোর্ট পাঠানো হলেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এছাড়াও অতি দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে বলে জানান তিনি।দীর্ঘ এক যুগ ধরে শিক্ষক সংকটে জর্জরিত বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলছেন, দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগসহ পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা না হলে আরো গভীর হবে শিক্ষা কার্যক্রমের চলমান সংকট। তাই শিক্ষার মান ধরে রাখা এবং বিদ্যালয়টিকে টিকিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।এইচএ

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
শীতেও শরীর ঘামলে যা করবেন
শীতেও শরীর ঘামলে যা করবেন

গরমকালে শরীর ঘামা স্বাভাবিক হলেও, শীতকালেও অনেকের শরীর ঘামতে পারে। বিশেষ করে যাদের থাইরয়েডের সমস্যা বা হরমোনের ভারভাসম্যহীনতা রয়েছে। আবার Read more

ফিডিং কর্মসূচির বাইরে আলফাডাঙ্গার প্রাথমিকের শিশুরা
ফিডিং কর্মসূচির বাইরে আলফাডাঙ্গার প্রাথমিকের শিশুরা

সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে দেশের ১৫০টি উপজেলায় ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। তবে ফরিদপুর জেলার মধুমতি নদী Read more

টানা বৃষ্টিতে পর্যটন নগরীতে হতাশা, কক্সবাজার ছাড়ছেন হাজারো পর্যটক
টানা বৃষ্টিতে পর্যটন নগরীতে হতাশা, কক্সবাজার ছাড়ছেন হাজারো পর্যটক

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে নেমে এসেছে বিপর্যয়। চার দিন ধরে থামছে না বর্ষণ, সাগরও রয়েছে উত্তাল। Read more

‘তরুণদের মাধ্যমে আইসিটি খাতে বাংলাদেশ ভালো অবস্থান তৈরি করবে’
‘তরুণদের মাধ্যমে আইসিটি খাতে বাংলাদেশ ভালো অবস্থান তৈরি করবে’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেছেন, বাংলাদেশের সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তথ্য ও Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন