স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হোসাইন আল সুহানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে এবং নারী আন্দোলনকারীদের চুলের মুঠি ধরে পুরুষ পুলিশ সদস্যরা ধরে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পর আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানা ঘেরাও করেন। এ সময় থানার প্রধান গেট আটকে দেওয়ায় থানার ভিতরে ও বাইরে ছাত্র-জনতা আটকে পড়েন।এছাড়ার প্রায় ৪ ঘণ্টার বেশি থানায় সেবাগ্রহনের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য থানার সামনে পৌঁছালে তাদেরকেও থানার ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।থানার মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দীন রনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুহানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে ‘ডেভিলে গ্রেপ্তার’ করা হয়েছে বলে পুলিশের কর্মকর্তারা জানালেও কে মামলা করেছে তার কোনো সদূত্তর দিতে পারেনি পুলিশ।সর্বশেষ রাত ১০টা পর্যন্ত থানা কম্পাউন্ডের ভিতরে মহিউদ্দীন রনিসহ আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। আর থানার বাইরে যারা ছিল, তারাও ভিতরে প্রবেশ করেছে।তবে স্বাস্থ্য সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দীন রনি বলেন, স্বেচ্ছা কারাবরণের জন্য আমরা কোতোয়ালী মডেল থানা চত্বরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করি। স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে গত ২৩ দিন ধরে আমরা আন্দোলন করছি। আন্দোলনে আমাদের ওপর দফায় দফায় হামলা হয়েছে। আমরা মামলা করতে চেয়েছি। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে পুলিশ মামলা এমনকি জিডিও নেয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ সড়কে অবস্থান নেয়।সেখান থেকে নারীসহ কয়েকজনকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেছে বলেও জানান রনি। রনি আরো বলেন, তাদের মধ্যে একজন জুলাই যোদ্ধা সুহানকে পুরোনো একটা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। তাই আমিসহ সকল শিক্ষার্থী থানায় এসেছি। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। নয়তো সুহানকে ছাড়তে হবে। এ সময় রনি পুলিশ কমিশনারকে সরাসরি এসে কথা বলতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রনি থানা চত্বরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা।থানা ভবনের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানার ওসির কক্ষে সভা করছেন।পুলিশের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এমনকি কেউ ফোনও রিসিভ করছেন না। তবে বিষয়টি পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তারা।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
