পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাতের আঁধারে জোরপূর্বক জমি দখল করে ঘর উত্তোলনের চেষ্টা ও বাগানের গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে রফিক মাতুব্বর (৩০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে রতনদী তালতলী ইউনিয়নের কামার হাওলা গ্রামে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) জানা গেছে জমির মালিক তানিয়া বেগম (২৬) মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে রফিক মাতুব্বর তার ভাইদের নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে তানিয়া বেগমের জমিতে প্রবেশ করে। এসময় তারা শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির বাগানের গাছ কেটে ফেলে এবং টিন-কাঠের তৈরি ঘর উত্তোলনের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে জমির মালিক তানিয়া বেগমের স্বজনরা বাঁধা দিলে তাদের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দখলচেষ্টা বন্ধ করে এবং দলিলপত্রসহ থানায় আসতে অভিযুক্তদের নির্দেশ দেয়।প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রফিক সরদার জানান, গভীর রাতে ডাকচিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি রফিক মাতুব্বর ও তার মামাতো ভাইরা গাছ কাটছে। আমি বাধা দিলে তারা শোনেনি। পরে ঘর তুলতে গেলে পুলিশ এসে বন্ধ করে দেয়।জমির মালিক তানিয়া বেগম বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আমার শ্বশুর রশিদ চৌকিদার রফিক মাতুব্বরের পিতা হামিরুল মাতুব্বরের কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। দলিল নম্বর ২৯৪৩, খতিয়ান নম্বর ২৪ ও ২৭, জেএল নং ১০৫। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে জমিটি নামজারি করে নতুন খতিয়ান খোলা হয়। এর মধ্যে এক মাস আগে আমার নামে ৬ শতাংশ জমি দলিল করে দেন আমার শ্বশুর। আমার শশুর দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ভোগদখলে আছেন। জমিতে আমরা বাগান করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেছি। এর আগেও রফিক মাতুব্বর জমি দখলের চেষ্টা করলে আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করে আমার শশুর। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন এবং প্রকৃত দখলদার রশিদ চৌকিদারের নাম ঘোষণা করেন। সেই আদেশ থাকা সত্ত্বেও তারা রাতের আঁধারে আমার বাগানের গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা করছে।’স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নওয়াব আলী বলেন, ‘রাতে জমি দখলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং টিন-কাঠের ঘরের চালা পড়ে আছে। আমার জানা মতে জমিটি তানিয়া বেগম ভোগদখলে ছিলেন।’অভিযুক্ত রফিক মাতুব্বর বলেন, ‘জমিটি আমার বাবার রেকর্ডীয় সম্পত্তি। তাই ঘর উত্তোলনে গিয়েছিলাম।’ তবে তিনি গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেন।গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
