কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নের খিরাচক গ্রামে প্রায় ৪ দশক আগে নির্মিত একটি ছোট্ট সেতু এখন ২০ গ্রামের মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪টি পিলারের একটি প্রায়ই নেই, বাকি ৩টিও নড়বড়ে। বহু আগেই ভেঙে গেছে রেলিং। এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের খুঁটি কুপে সামান্য রেলিং বসালেও প্রতিদিনই মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় হাজারো মানুষকে। হেঁটে সেতু পার হওয়ার সময় কাঁপতে থাকে পুরো কাঠামো। মনে হয়, এই বুঝি এখনই ভেঙে পড়বে নিচে। যানবাহন তো দূরের কথা, পথচারীরাও আতঙ্কে থাকেন। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে।স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর সেতুটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝে মাঝে মাপজোখ করতে এলেও পরে আর কোনো খোঁজখবর থাকে না। নৌকা চলাচলের সময় পিলারে ধাক্কা লেগে সেতুটি আরও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তবে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।খিরাচক গ্রামের দিনমজুর মনসুর আলী জানান, সেতুর কারণে গ্রামে গাড়ি আনা যায় না। রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে হেঁটে বা কোলে করে নিতে হয়, যা ভীষণ কষ্টকর। একই এলাকার আমেনা বেগম বলেন, অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় অনেক সময় মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।এলাকার আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, সেতুর চারটি পিলারের মধ্যে একটি নেই, বাকিগুলোর অবস্থাও খুবই খারাপ। মানুষজন ভয়ে সেতুতে না গিয়ে নৌকা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।খিরাচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, প্রতিদিন তাঁর স্কুলের শিশুরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হয়। কোনো বিকল্প পথ নেই। প্রশাসনের কাছে বারবার জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম বলে, ব্রিজে উঠলেই ভয় লাগে। কাঁপে, মনে হয় পড়ে যাব। আরেক ছাত্রী সাবিকুন নাহার জানায়, পিলারগুলো ভেঙে গেছে। আমরা ভয় পাই। কেউ দেখে না কেন?এ বিষয়ে ভাওরখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, সেতুটি বিদেশি ফান্ডে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটি আর হয়নি। পুরো ভাওরখোলা, গোবিন্দপুরসহ ২০-২৫ গ্রামের মানুষ এ সেতুর কারণে দুর্ভোগে আছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় গোবিন্দপুরের মানুষ টিএনটি মোড় হয়ে উপজেলায় যেতে বাধ্য হচ্ছে। আমি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। সরকার দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করলে মানুষের অনেক উপকার হবে।মেঘনা উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিয়াজ উদ্দিন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। শুধু এটিই নয়, কাছাকাছি আরেকটি সেতুও জরাজীর্ণ, সেখানে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার হচ্ছে। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন হয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
