নামফলকের ওপর সন্তানের নাম। কাঁপা কাঁপা হাতে সেই নাম স্পর্শ করতেই আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলেন না মো. তোফাজ্জল হোসেন। চোখ ভিজে গেল, বুকের ভেতর জমে থাকা কান্না ফেটে বেরিয়ে এলো। চব্বিশের জুলাইয়ে হারানো বড় ছেলে সাগর আজ যেন আবার ফিরে এলেন তাঁর কাছে, এই পাথরের নামফলকে খোদাই হয়ে।বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে নবনির্মিত ‘শহীদ সাগর ছাত্রাবাস’ এর নামফলক উন্মোচন করতে গিয়ে এমন করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয় সরকারি বাঙলা কলেজ ক্যাম্পাসে। ফলক উন্মোচন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল হাসান এবং সাগরের পিতা মো. তোফাজ্জল হোসেন।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত হওয়া কলেজটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাগরের নামে নবনির্মিত এই ছাত্রাবাসের নামকরণ করা হয়েছে।উদ্বোধনের পর মুহূর্তেই তোফাজ্জল হোসেন স্মৃতির সাগরে ডুবে গেলেন। তখন হয়তো তার মনে পড়ছে ছেলের হাসি, স্বপ্ন, আর সেই কালো জুলাইয়ের দিনগুলো, যে দিনগুলোতে হাজারো পিতার সন্তানেরা হারিয়ে গিয়েছেন চিরদিনের জন্য। হয়তো তিনি ভাবছিলেন সেই মুহূর্তের কথা, যখন তার সন্তান শেষবারের মতো তাকে বলেছিল, ‘কিছু টাকা পাঠাও বাবা, পরিস্থিতি ভালো না।’ভাবতে ভাবতে মানুষের ভিড়ের মাঝেই তিনি দাঁড়িয়ে কাঁদলেন; এ কান্না হারানোর, আবার এক অমলিন ভালোবাসার।এমন সময় আবেগঘন কণ্ঠে শহীদ পিতা বলেন, ‘আমার সাগরের জন্য সবাই দোয়া করবেন, সাগর চিরদিনের জন্য আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আজ আপনারা সাগরের নামে হল করলেন, আল্লাহ যেন সাগরকে ভালো রাখেন।’উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল হাসান বলেন, ‘যাদের রক্তে স্নাত ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ, তাদের মধ্যে অন্যতম বাঙলা কলেজের আমাদের প্রাণপ্রিয় ছাত্র শহীদ সাগর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শহীদ সাগরের নামে নতুন ছাত্রাবাস, তা আমরা সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছি। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সাগরসহ যত লোক শাহাদাত বরণ করেছেন, আমরা সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’উক্ত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে ২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাগর। তিনি সরকারি বাঙলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।সরকারি বাঙলা কলেজের নবনির্মিত ছাত্রাবাসের নামকরণ শহীদ সাগরের নামে করার জন্য কলেজটির শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবৎ দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে ‘শহীদ সাগর ছাত্রাবাস’ নামটি চূড়ান্ত করে। এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
