গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফাঁসির তিন আসামি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে, যা নিয়ে জেল কর্তৃপক্ষ একটি মামলা করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আসাদুর রহমান কোনাবাড়ী থানায় তিন আসামির পালানোর চেষ্টার বর্ণনা দিয়ে একটি মামলা করেন।এজাহার অনুযায়ী জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডের সাজায় বন্দি টাঙ্গাইল সদর থানার চৌবাড়িয়া এলাকার শাহাদাত হোসেন, জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার মাঝিনা এলাকার রনি মহন্ত এবং কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানার দিয়াডাঙ্গা এলাকার নজরুল ইসলাম মজনু ওরফে মঞ্জু জেল থেকে পালানোর প্রস্তুতির নিয়ে ছিলেন।মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট রাত সোয়া ৮টার দিকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে দায়িত্ব পালন করছিলেন সহকারী প্রধানরক্ষী মোখলেছুর রহমান। তিনি তমাল ভবনের নিচতলায় ১২ নম্বর কক্ষ থেকে দেয়ালে আঘাত করার শব্দ শুনতে পান।পরে ৬ আগস্ট সকালে ওই কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। পরে সেখান থেকে একটি লোহার পাত, দুই টুকরা রড, কম্বল কেটে বানানো ২৮ ফুট লম্বা একটি রশি, কম্বল দিয়ে তৈরি ২৫ ফুট লম্বা একটি বেল্ট, লোহার তৈরি দুটি আংটা, ১০ ফুট লম্বা একটি খুঁটিসহ বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়।এসব উপকরণ কেন কক্ষে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহভাজন বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কারা কর্তৃপক্ষ। এসময় বন্দিরা বলেন, জেল থেকে পলানোর জন্য এসব উপকরণ বানিয়ে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তারা জেল থেকে পালাতেন অথবা পালানোর সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।কারা সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই তিন আসামি পালানোর অপেক্ষায় ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সুযোগ বুঝে তারা কারাগার থেকে পালিয়ে যেতেন।গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সারা দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে কারা সূত্রের খবর।এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সালাহ উদ্দিন জানান, হাই সিকিউরিটি কারাগারের জেলার একটি এজাহার দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
