প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে একটি বৈশ্বিক বাধ্যতামূলক চুক্তিতে পৌঁছাতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ। এ লক্ষ্যে গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠকেও বসে তারা। অন্তত ২০০টি দেশের প্রতিনিধিরা সে বৈঠকে অংশ নিলেও মতপার্থক্যের কারণে ভেস্তে যায় আলোচনা। সে ব্যর্থতা ভুলে একই লক্ষ্যে এবার সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নতুন করে বৈঠকে বসেছে জাতিসংঘ। বৈঠকে ১৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা প্লাস্টিক দূষণ রোধে করণীয় ঠিক করতে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনা করবেন। এই বৈঠকে অবশ্যই প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার হ্রাসে একটি বৈশ্বিক বাধ্যতামূলক উচ্চাভিলাষী চুক্তি হওয়া দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্লাস্টিক বর্জ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিচার্ড থম্পসন বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চোখে চোখ রেখে কথা বলার মতো নৈতিক সাহস পেতে, জাতিসংঘের প্লাস্টিক দূষণবিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের অবশ্যই একটি উচ্চাভিলাষী বৈশ্বিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। মানব স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় এখনই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।এই বছর টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পাওয়া থম্পসন, যিনি প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে বৈপ্লবিক কাজের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। প্লাইমাউথ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বর্জ্য গবেষণা ইউনিটের প্রধান থম্পসন প্রথমবার ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ শব্দটি ব্যবহার করে ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা সামুদ্রিক পরিবেশে জমা হয়। তিনি জেনেভা আলোচনায় একজন প্রতিনিধিত্বকারী বিজ্ঞানীদের জোটের সমন্বয়ক হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। বৈঠক বিষয়ে তিনি বলেন, এখন এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে, প্লাস্টিক দূষণ মেরু অঞ্চল থেকে শুরু করে নিরক্ষীয় অঞ্চল পর্যন্ত আমাদের গ্রহকে দূষিত করছে। আমরা মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছি গভীর সমুদ্রে, এমনকি সর্বোচ্চ পর্বতেও। গর্ভাবস্থায় থেকেই মানুষের শরীরে এসব প্রবেশ করছে এবং জীবনভর এর সংস্পর্শে আসছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে প্লাস্টিক দূষণ রোধে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে আলোচনায় কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক ভেস্তে যায়। ১০০টিরও বেশি দেশ আইনি বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন বৈশ্বিকভাবে প্লাস্টিক উৎপাদন কমানো এবং নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দেয়। কিন্তু সৌদি আরব, চীন, রাশিয়া এবং ইরানের মতো বড় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর দেশগুলো প্লাস্টিক উৎপাদনে সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে এবং পরিবর্তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার উন্নত করার কথা বলে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
