গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেছেন, গণঅধিকার পরিষদ দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে। এই কিশোরগঞ্জে বড় বড় নেতা পেয়েছিল কিন্তু কেউ এলাকার জন্য কাজ করে নাই। আমরা এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এই এলাকার স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা কাজ করবো। এই এলাকায় কোন চাঁদাবাজ দখলবাজের ঠাঁই হবে না।মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে হোসেনপুর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে বিজয় র্যালীর সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।আবু হানিফ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আজকে ১ বছর। ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। ছাত্র জনতা যেই আকাঙ্খা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল, জীবন দিয়েছিলো, সেই আকাঙ্খা এখনও বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অর্ন্তবর্তী সরকার ছাত্র জনতার রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন কিন্তু আপনারা জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করছেন। নিহতদের পরিবার এখনও ক্ষতিপূরণ পায়নি, আহতদের সবার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়নি। এই সরকারের বড় ব্যর্থতা একবছরেও জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে না পারা। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করুক।’আবু হানিফ আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলো। দেশে গুম খুন করে বিরোধী মতকে দমন করেছিল। জুলাইয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালায় হাসিনা। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আর ফিরতে পারবে না, আমরা বাংলাদেশে আর কাউকে নতুন করে আওয়ামিলীগ হতে দিবো না। যারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের মত ফ্যাসিবাদ রূপে আর্বিভাব করতে চান, আপনারা আওয়ামি লীগের পতন থেকে শিক্ষা নেন। আওয়ামী লীগের মত কেউ ফ্যাসিবাদ হতে চাইলে তার পরিণতিও ভয়াবহ হবে।’আবু হানিফ আরও বলেন, ‘আরেকটা বিষয় বিগত সময় আওয়ামিলীগের হয়ে কাজ করতো প্রশাসন, এখন কোন দল ক্ষমতায় নাই কিন্তু প্রশাসনের কেউ কেউ নিদিষ্ট দলের হয়ে কাজ করছে। আপনাদের বলবো নিরপেক্ষ হয়ে জনগণের জন্য কাজ করুন, তা না হলে আপনাদের পরিণতিও খারাপ হবে।’এসময় শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে এই গণঅধিকার পরিষদই লড়াই করেছে। চাঁদাবাজ, দখলবাজদের বিরুদ্ধে যেকোন লড়াই করতে প্রস্তুত। কেউ চাঁদাবাজি, দখলবাজি করলে তার বিরুদ্ধেও জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করবো। কোন চাঁদাবাজ দখলবাজের ঠাঁই হোসেনপুর হবে না।’বেলা ১২টায় মোরগমহল থেকে শুরু হয়ে হাসপাতাল মোড় ঘুরে নতুন রাস্তা মোড়ে এসে এ র্যালি শেষ হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে। ছাত্র অধিকার পরিষদ, কিশোরগঞ্জ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন রাজের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক অভি চৌধুরী, ছাত্র অধিকার পরিষদ, হোসেনপুর উপজেলার সভাপতি সালমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুহেল হায়দার, হোসেনপুর পৌর আহবায়ক মিজানুর রহমান, উপজেলার আহবায়ক ইমরান হাসান, সদস্য সচিব হুমায়ুন কবীর, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনির খান, সাধারণ সম্পাদক রাসেল শেখ, শ্রমিক অধিকার সভাপতি আলম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান প্রমুখ।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
