কৃত্রিম সারসংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির পায়তারা করছিলেন ঝিনাইদহ শৈলকূপা ১ আসনের সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতার ভাই।সোমবার(৪ আগস্ট) গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ৮৩১ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।এ সময় অবৈধভাবে মজুদ রাখার দায়ে আইয়ুব জোয়ার্দ্দার নামে ওই সার ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের ভাটই বাজারের শুভ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সার গোডাউনে।অবৈধ মজুদকৃত সারের মধ্যে রয়েছে ৫৪১ বস্তা ডিএপি ও ২৯০ বস্তা টিএসপি, যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৮ লাখ টাকার বেশি।শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উমেদপুর ইউনিয়নের ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজের মালিক আইয়ুব জোয়ার্দ্দারের সার গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। তিনি আরো জানান, সরকারি স্টক ছাড়াই ভাটই বাজারে এই সার মজুদ করা হয়েছিল। খবর পেয়ে দুধসর ইউনিয়নের ভাটই বাজারের কালীতলার একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মজুদের ৮৩১ বস্তা সার জব্দ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ৫৪১ বস্তা ডিএপি ও ২৯০ বস্তা টিএসপি।পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসিল্যান্ড সিরাজুস সালেহীন সার ব্যবসায়ী আইয়ুব জোয়ার্দ্দারকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।সার ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৪ সালে সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ নেতা নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার তার ডিলারশিপ ভাইয়ের নিকট হস্তান্তর করেন। এরপর তিনি ঝিনাইদহ ১ আসনে এমপি নির্বাচিত হন।অভিযোগ রয়েছে, ডিলারশিপ হস্তান্তর করার পরও সার ব্যবসা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতেন সাবেক সংসদ সদস্য নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার। তিনি এখনো পলাতক আছেন। অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা করছিলো এই চক্রটি। তার বিরুদ্ধে এর আগেও কৃষকরা অভিযোগ করেছিল যে তিনি গোপনে চুরি করে বেশি দামে সাধারণ দোকানে সার বিক্রি করতেন। আওয়ামী লীগে বড় নেতা হওয়ার কারণে ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতো না। এ ঘটনার পর এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা তার লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
