সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) একটি বাস মেরামতের সময় টাকা আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। শুধু অর্থ লোপাটই নয়, দুর্নীতির প্রশ্ন তোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক কর্মকর্তাকে মারধরেরও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভূমি) মো. মোজাহিদ খান এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী এইচ এম তাইফ-উর আকবর।ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের অক্টোবরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বাস মেরামতের ব্যয়ের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে কয়েকটি সামগ্রীর দাম নিয়ে সন্দেহ করেন। এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে একই দোকান থেকে নতুন করে পণ্যের মূল্য (কোটেশন) সংগ্রহ করে দেখতে পান, মূল্য তালিকার সঙ্গে জমা দেওয়া বিলের অমিল রয়েছে।এই অনিয়মের প্রমাণসহ ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর স্টোর কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান লিখিতভাবে অভিযোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। সেখানে তিনি বিভিন্ন পণ্যের কেনাকাটা বা বিলে মোট প্রায় ৪০ হাজার টাকার দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেন বলে প্রতিবেদকের কাছে নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রায় ৬ মাস পর, ২০২৫ সালের ৫ মে, অভিযুক্ত মোজাহিদ খান স্টোর কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে আক্রমণের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন মতিউর রহমান।স্টোর কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, ‘দামের গড়মিল দেখে আমি অভিযোগ করি। এরপর মোজাহিদ ভাই আমার অফিসে এসে আমাকে গালাগালি করেন, মারতে আসেন। আমি নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর হাত চেপে ধরি।’তিনি আরও বলেন, ‘এখন তদন্ত কমিটি হয়েছে। আমি আশা করছি, ন্যায়বিচার পাবো। তবে যদি আবারও অন্যায় হয়, তাহলে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ জানাবো।’এই ঘটনার পর ৮ মে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। কমিটির সভাপতি হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার আবু মুহাম্মাদ মুকাম্মেল, সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আহসানউল্লাহ এবং সদস্য হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মো. আবু রায়হান।কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে প্রায় ২ মাসের বেশি সময়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি। প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরতদের মধ্যে।অভিযুক্ত মোজাহিদ খান বলেন, ‘বাসের মেরামতের প্রাথমিক বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত যন্ত্রাংশের প্রয়োজন পড়ে। ভিসি স্যারের নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করিয়েছি। হিসাব দেখেছেন অন্য একজন। মতিউর ভাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা ছিল ভুল বোঝাবুঝি। পরে আমি তাঁর কাছে ক্ষমাও চেয়েছি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমি ২৬ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে আছি, আমার বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অভিযোগ আসেনি।’অন্য অভিযুক্ত প্রকৌশলী এইচ এম তাইফ-উর আকবর বলেন, ‘বাজারে গিয়ে পণ্যের দাম যাচাই করে কম দামের ফ্যান কিনেছি। সব কাগজপত্র প্রস্তুত আছে। মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি শুধু দুজনকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম।’তদন্ত কমিটির সভাপতি আবু মুহাম্মাদ মুকাম্মেল বলেন, ‘বাজেট, এস্টিমেট ও ক্রয়ের অডিট চলছে। স্টোর কমিটির সঙ্গেও বসা হবে। আমরা কোনো পক্ষপাত না করে ঈদের আগেই প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তবে এখন পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।’বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘উভয় পক্ষের বক্তব্য পেয়েছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে এলেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
