দুই পাশে মাটি ভরাট ও সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো কাজে আসছে না প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু। এক বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে ময়মনসিংহের ফুলপুরের খড়িয়া নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি। মাটি ভরাট ও সংযোগ সড়ক না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। তারা দ্রুত সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট ও সংযোগ সড়ক চালুর দাবি জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছেন, দ্রুতই এই সেতুটি চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জানা গেছে, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ খড়িয়া নদীর উপর ছোটচিলাগাই এলাকায় একটি সেতুর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর জন্য ব্যয় ধরা হয় ৯ কোটি ৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা। বাহাদুরপুর জিসি-ভাইটকান্দি জিসি সড়কের ৩,৩৫০ মিটার চেইনেজে ৮৫.০৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এটি বাস্তবায়নে কাজ করে ময়মনসিংহের এমএসআই-এমটিএন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে নির্মাণ কাজ শেষ করে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাটের কাজটি অসম্পুন্ন রাখেন। এতে সেতুটি কোনো কাজে আসছে না এলাকাবাসীর। সেতু দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। দীর্ঘদিনেও সেতুর সংযোগ সড়ক না হওয়ায় দুর্ভোগ যেন আরও বেড়েছে এলাকাবাসীর। তারা এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।ছোটচিলাগাই গ্রামের সাকিব আহমেদ তুহিন বলেন, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এই এলাকায় একটি সেতু নির্মিত হবে। যথাসময়ে সেতুটি নির্মিতও হয়। কিন্তু দু’পাশে সংযোগ সড়ক বা মাটি ভরাট না করায় সেটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার বলা হলেও কাজ হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। আমরা চাই অল্প সময়ের মধ্যে সেতুটি যেন চালু করা হয়।’সুতারকান্দি গ্রামে কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক থেকে সেতুটি প্রায় ৪/৫ ফুট উঁচুতে। পরিকল্পনার ত্রুটিতে মূলত এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে সেতু থাকা সত্ত্বেও যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করা হয়নি। এতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সেতুর দু’পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এখন হেঁটে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে সেতুর দুই পাশে পানি জমে। তখন কেউ চলাচল করতে পারে না।’এ বিষয়ে এমএসআই-এমটিএন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ফুলপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম। এখন দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, ‘আমি যোগদান করার আগেই কাজটি সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেননি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও সেতুর পাশে মাটি ভরাট করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা হবে।’পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
