ভাড়া বৃদ্ধির দাবীতে গেল ৩ দিন ধরে ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লাহারহাট নৌ-রুটে চলাচল করা স্পিডবোট চালকরা ধর্মঘট পালন করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই রুটে চলাচল করা সাধারণ যাত্রীরা।শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে ভোলার ভেদুরিয়া স্পিডবোট ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বোটগুলো চলাচল বন্ধ রেখে চালকরা অলস সময় পার করছেন। যাত্রীরা ঘাটে এসে স্পিডবোট না পেয়ে বিকল্প নৌযান হিসেবে লঞ্চে করে গন্তব্যস্থানে যাচ্ছেন।এর আগে, গেল বুধবার বিকেল থেকে ভাড়া বৃদ্ধির দাবীতে ধর্মঘটের ডাক দেন ভোলা স্পিডবোট চালকরা। এরপর পরই বরিশাল ডিসি ঘাটের স্পিডবোট চালকরা ধর্মঘট পালন করে সেখান থেকেও কোনো বোট ছেড়ে আসেনি।ভোলা-বরিশাল রুটে জনপ্রতি ৩০০ টাকা, ভোলা-লাহারহাট জনপ্রতি ১৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী দীর্ঘদিন স্পিডবোট চলাচল করলেও হঠাৎ করে স্পিডবোট চালকদের এমন ধর্মঘটে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি ও ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।স্পিডবোট চালকরা বলছেন, সরকার থেকে নির্ধারণ করা ভোলা-বরিশাল জনপ্রতি ৩০০ টাকা, ভোলা-লাহারহাট জনপ্রতি ১৫০ টাকা ভাড়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তারা ভোলা-বরিশাল রুটে জনপ্রতি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা এবং ভোলা-লাহারহাট ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকা বৃদ্ধি করার দাবী জানিয়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।যাত্রীরা বলছেন, ভোলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার রুটের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ভোলা-বরিশাল নৌ-রুট। প্রতিদিন এই রুটে হাজার হাজার যাত্রী দ্রুততম সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে স্পিডবোট ব্যবহার করেন। মূলত যাত্রীদের জিম্মি করার উদ্দেশ্যেই তাদের এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বলে মনে করছেন তারা।বরিশালের উদ্দেশ্যে যাওয়া ভেদুরিয়া স্পিডঘাটে অপেক্ষামান মেহেদী হাসান নামের এক যাত্রী জানান, ‘তার এক স্বজন অসুস্থ হয়ে বরিশাল মেডিকেলে ভর্তি আছেন। তাকে দ্রুত বরিশাল পৌঁছাতে হবে, তাই তিনি ঘাটে এসেছেন। তবে, স্পিডবোট চলাচল যে বন্ধ রয়েছে, তা তিনি জানতেন না। তাই, দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে এখন তার বেগ পেতে হচ্ছে।’জাহিদ নামের অপর এক যাত্রী জানান, ‘স্পিড চালকরা খামখেয়ালি করে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রেখেছেন। গন্তব্যস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে আমরা স্পিডবোট ব্যবহার করি। কিন্তু তাদের এই ধর্মঘটের কারণে আমরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।’এদিকে, ধর্মঘট ডাক দেওয়ার একদিন পরেই একটি সংবাদ সম্মেলন করেন ভোলা স্পিডবোট মালিক সমিতি। এসময় তারা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নদীবন্দরের সহকারী উপ-পরিচালক মো. রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অভিযোগ তোলেন এবং ভাড়া বৃদ্ধির দাবী জানান।এছাড়াও, এর আগে চলতি মাসেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন স্পিডবোট মালিক সমিতি ও চালকরা।ভোলা স্পিডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল আহম্মেদ সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, ‘ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লাহারহাট রুটে চলাচল করা স্পিডবোটে যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে স্পিডবোট চালকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ভাড়া বৃদ্ধির দাবীতে তাদের এই ধর্মঘট।’তিনি আরও জানান, ‘ভোলার প্রায় ৮০টি স্পিডবোট থেকে “টাইম টেবিলের” নামে মাসিক ১২০০ টাকা করে চাঁদা নেন ভোলা নদীবন্দরের সহকারী উপ-পরিচালক রিয়াদ হোসেন। যা সম্পূর্ণ অন্যায়। তার এই অনিয়ম থেকেও আমরা বাঁচতে চাই।’তবে, ভোলা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, ‘ভোলা-বরিশাল রুটে চলাচল করা স্পিডবোটের সংখ্যা ২০০ এর অধিক। এর মধ্যে ১২০টি স্পিডবোটের রুট পারমিট রয়েছে, বাকীগুলোর রুট পারমিট নেই।’বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর সহকারী উপ-পরিচালক মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল, ভোলা-লাহারহাট রুটে যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সরকার থেকে গেজেট অনুমোদিত। সেখানে আমার কিছু করার নেই। তবে, তারা এভাবে ধর্মঘটের ডাক না দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের নিকট ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন করতে পারতেন।’দ্রুত ধর্মঘট সমস্যার সমাধানের কথা জানিয়ে তিনি সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘ধর্মঘটের বিষয়ে বরিশালের বেশকিছু সংগঠনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আশা করি ধর্মঘটের বিষয়টি খুব দ্রুত সমাধান হবে।’তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘ভোলায় অনেক স্পিডবোট চালকরা দক্ষ নয়। ছোট ছোট কিছু ছেলেদের দিয়ে তারা স্পিডবোট চালায়, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলেই তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ায়। যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
