চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪৭২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ১১ এপ্রিল থেকে টানা উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটির এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায় এবং মেরামত ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। লাভজনক এ শিল্পটি বাঁচাতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’সূত্র জানায়, সিইউএফএল চালু রাখতে প্রতিদিন ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) গত ১১ এপ্রিল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে, একই অঞ্চলের কাফকো কারখানায় দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।কারখানা সূত্রে আরও জানা যায়, সিইউএফএলের উৎপাদন সক্ষমতা ছিল দৈনিক ১০০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া ও ১৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া। তবে গত কয়েক বছর ধরেই যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটে বছরে কয়েকবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এ কারখানায় বছরে মাত্র এক লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হচ্ছে, যেখানে সম্পূর্ণ চালু থাকলে উৎপাদন হতো ৩ লাখ টনের বেশি।চাকরি হারানোর আতঙ্কে থাকা শ্রমিকরা বলছেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এখনো উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রেখেছে। কিন্তু পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনা ও গ্যাস সংকটের কারণে প্রতি বছর উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি—এই গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানাকে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে হবে।’এ বিষয়ে কেজিডিসিএলের বিপণন (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, ‘ডিস্ট্রিবিউশনের বিষয়টি আমার আওতায় নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ দায়িত্বে রয়েছে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
