রাজধানী ঢাকার আব্দুল্লাহপুর এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগস্থল হলেও এখানকার সড়কের অবস্থা যেন চরম অবহেলার প্রতিচ্ছবি। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি রূপ নেয় জলকাদার সাগরে। গর্তে গর্তে ভরা এই সড়কে যান চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীরাও হাঁটতে গিয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েন।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাস্তায় গর্ত নয়, মনে হয় পুকুর। বর্ষাকালে তো নৌকা ছাড়া চলা দায়।’ বিশেষ করে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড ও তার আশেপাশের সড়কগুলোতে পানি জমে চলাচল একেবারেই দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যায়, আর যানজটে নাকাল হতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।এলাকাবাসীরা বারবার অভিযোগ করলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে গর্তে ইট বা বালি দিয়ে ঢেকে দিলেও বৃষ্টির পানিতে তা ধুয়ে গিয়ে পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।সঠিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা, দুর্বল মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়াই এই সমস্যার মূল কারণ।এ অবস্থায় এলাকার বাসিন্দারা প্রশ্ন করছেন, ‘এটা কি রাজধানীর রাস্তা, নাকি অবহেলিত কোনো গ্রামাঞ্চলের কাঁচা রাস্তা?’ তারা অবিলম্বে টেকসই ও সুষ্ঠু সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।ধউর বেরিবাধ হয়ে আব্দুল্লাহপুর প্রবেশের আগেই হোয়াইট প্যালেসের হোটেলের সামনে থেকে বিপজ্জনক ভাঙা শুরু হয়ে একদিকে টঙ্গী অন্যদিকে হাউজ বিল্ডিং। এরই মধ্যে রয়েছে আব্দুল্লাহপুর মাছের বাজার ও তাসিন পাম্পের গ্যাসের দীর্ঘ লাইনের যানজট। এটা পাড়ি দিয়ে ঢাকার দিকে ঢুকতেই পাড়ি দিতে হচ্ছে মৃত্যু নগরী ও দীর্ঘ যানজট। তবে এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহপুরের ট্রাফিক পুলিশের টি আই ইউনুস বলেন, ‘সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোকজনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে, তারা এখনো পর্যন্ত রাস্তাটি মাপজোপের কাজ ছাড়া কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।’এ বিষয়ে উত্তরা ট্রাফিক জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার সাইদ বলেন, ‘আব্দুল্লাহপুর সড়কের বিষয়ে বিআরটি প্রকল্পে এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের অনেকবার বলা হয়েছে, সরেজমিনেও দেখানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
