মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাট অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় তালিকাভুক্ত পাট চাষিদের মধ্যে বিনামূল্যে পাট বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিউজ না করার জন্য সাংবাদিককে টাকা দিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা করেন উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা। জানা যায়, তালিকাভুক্ত পাট চাষিদের মধ্যে পাট বীজ ও রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করার কথা থাকলেও তালিকায় যারা রয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই পাট চাষ করেন না। এমনকি কৃষি কাজে সম্পৃক্ত নয় এমন ব্যক্তিরাও পাট চাষি সুবিধাভোগীর তালিকাভুক্ত হয়েছেন। প্রকৃত পাট চাষিরা বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ বঞ্চিত হওয়ায় পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে গাংনী উপজেলার তালিকাভুক্ত ২৮২৭ জন পাট চাষির মধ্যে বিনামূল্যে পাট বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণসহ ৭৫ জন পাট চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে পাট চাষিরা বলছেন ভিন্ন কথা। উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে ঘুরে পাট চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে তারা পাট চাষ করলেও আজ পর্যন্ত কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। সরকারিভাবে পাট বীজ ও সার দেওয়া হয়, সেটি এই প্রতিবেদকের মুখেই প্রথম শুনছেন বলেও জানান অনেক কৃষক। উপজেলার কাজিপুর গ্রামের পাট চাষি আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রতি বছরই কয়েক বিঘা পাট চাষ করি। তবে আজ পর্যন্ত কোন সার, বিষ কিংবা অন্য কোন সুযোগ-সুবিধা পায়নি। ফসলটা কেমন হচ্ছে, এটি দেখারই তো লোক নেই, আবার সুবিধা দেওয়ার লোক কোথায় থেকে আসবে।’ তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের পাট চাষি হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাট চাষে বীজ, সার দেয়, প্রথম শুনছি। এসব পাওয়া তো দূরের কথা।’ বামন্দী গ্রামের কৃষক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর পাট চাষ করেও তালিকায় আমাদের নাম থাকে না। ২৮২৭ জনের তালিকা একেবারেই কম না। কিন্তু প্রকৃত পাট চাষিরা সরকারি সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তবে কারা এই সুবিধা পাচ্ছে, তদন্ত করা উচিত।’ আকুবপুর গ্রামের আরেক পাট চাষি আবুল হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর পাট চাষ কমছে। সহযোগিতা তো দূরের কথা, খোঁজ নেওয়ার লোক থাকে না। পাট চাষ করে কষ্টে থাকে কৃষকেরা।’ গাংনী উপজেলায় বিনামূল্যে পাট বীজ ও সার নেওয়া ২৮২৭ জন পাট চাষির নামসহ তালিকার তথ্য চাইতেই উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা এরশাদ আলী প্রতিবেদককে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। টাকা না নেওয়ায় প্রতিবেদকের উপর অসন্তুষ্ট হন এই কর্মকর্তা। বিনামূল্যে পাট বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে এরশাদ আলী কোন জবাব না দিয়ে চুপ করে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে মেহেরপুর জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আ.কা.ম হারুন অর রশীদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের ৮ তারিখে গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ৭৫ জন পাট চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে অনিয়মের চিত্র দেখা যায়। সময়ের কণ্ঠস্বরে বিষয়টি নিয়ে ‘পাটচাষ প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ গাংনীর কৃষকরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে পাট চাষীদের অভিযোগ ছিল- সাজানো কৃষকদের নিয়ে পাটচাষি প্রশিক্ষণ দেওয়ার। যেখানে প্রকৃত চাষিদের প্রশিক্ষণ বঞ্চিত করা হয়েছে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
