সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অধিকাংশ কূটনৈতিক কর্মকর্তা সরিয়ে নিচ্ছে ইসরায়েল। গালফ অঞ্চলে ইসরায়েলি ও ইহুদি নাগরিকদের ওপর ‘হামলার ঝুঁকি’ বাড়ায় দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনএসসি) এ সতর্কতা জারি করেছে। ইসরায়েলি বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য মিডেল আই। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য মতে, এরই মধ্যে আমিরাত থেকে দূতাবাস কর্মীদের প্রত্যাহার শুরু করেছে তেল আবিব। এই ধরনের উত্তেজনার পেছনে অবশ্য একটি বড় কারণও আছে। আরব আমিরাতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আব্রাহাম শেলিকে প্রত্যাহার করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমিরাত জানিয়েছে, তারা একটি বারে “অসম্মানজনক” আচরণের কারণে তাকে আর গ্রহণ করতে রাজি নয়।গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, ইহুদি ধর্মীয় ছুটির দিন এবং শাব্বাতকে ঘিরে আমিরাতে ইসরায়েলি বা ইহুদি ব্যক্তিদের ওপর হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ হিসেবে কাউন্সিল জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে ইসরায়েলের হামলা এবং গাজায় চলমান হামলার কারণে ‘পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কা’ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে আরব আমিরাত। এটি ছিল মিশর (১৯৭৯) ও জর্ডানের (১৯৯৪) পর তৃতীয় আরব দেশ, যারা স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েলকে। ২০২২ সালে, দুটি দেশ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতেও স্বাক্ষর করে।প্রসঙ্গত, গাজা যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি না হলে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে। একইদিনে ফ্রান্সের নেতৃত্বে ১৫টি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির পক্ষে অবস্থান জানায়।পরের দিন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর পর্তুগালও একই বার্তা দেয়। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক রাষ্ট্র ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র’ গঠনের পক্ষে একমত। আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
