চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ১০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ১৯ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষার্থীর এইসব বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৪০টি বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে এসব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্রম। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের নেতৃত্বের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকরা পাঠদান করতে সময় দিতে না পারায় শিক্ষাক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই অনেক অভিভাবক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে তাদের ছেলে-মেয়ে পড়ালেখার জন্য কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি বিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকেছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিদ্যালয়গুলোকে ৪টি ক্লাস্টারে বিভক্ত করে চলছে শিক্ষাক্রম। এই ক্লাস্টারগুলো তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে ৩ জন সহকারী শিক্ষা অফিসার, সেখানেও রয়েছে মাত্র ১ জন সহকারী শিক্ষা অফিসার। ফলে তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায়ও ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা একজন শিক্ষিকা বলেন, ‘একসাথে ২টি দায়িত্ব পালন করতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে, ততই শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সকলের জন্য ভালো হবে।’অভিভাবক আব্দুল করিম জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ঐ সহকারী শিক্ষক ছেলে-মেয়েদের ক্লাস নিতে পারছে না। তাই ভালোভাবে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করতে পারছে না। শিক্ষাবিদ ও বার আউলিয়া ডিগ্রী কলেজের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান জানান, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল। সেখানে দায়িত্বের জায়গায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষ না থাকলে সেটা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করবে এবং এটি খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।’লোহাগাড়া উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের ঘাটতি থাকলে শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে শিক্ষাব্যবস্থায় কোন ক্ষতি হচ্ছে না। আশা করি অচিরেই শূন্য পদে সরকার শিক্ষক নিয়োগ দেবে।’প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকার কথা স্বীকার করে লোহাগাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইবনে মাসুদ রানা জানান, ‘আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি, যে কোন সময় সরকার তা পূরণ করবে।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
