বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন ‘টেসলার’ মতো বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে দাপট দেখাচ্ছে, ঠিক তখন বাংলাদেশের রাস্তায় রাজত্ব করছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। অনেকেই এই রিক্সাগুলোকে মজা করে ‘বাংলা টেসলা’ বলে থাকেন। বর্তমানে তিন চাকার এই বাহনটি হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান বাহন। এরই মধ্যে শহরাঞ্চলে পরিবহন ব্যবস্থায় এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে এ যানবাহন।সরকারি হিসাব না থাকলেও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে ৪০ লাখেরও বেশি ব্যাটারি চালিত এসব রিক্সা চলাচল করছে। অল্প খরচে বেশি যাত্রী সক্ষম এই রিক্সাগুলো। তাছাড়া দেশের প্যাডেল চালিত রিক্সার চেয়ে এ রিক্সাগুলোর গতিও অনেক বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই বাহনটি। একসময় ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে প্যাডেলচালিত রিকশাই ছিল একমাত্র রিকশা পরিবহন। এই ঐতিহ্যবাহী বাহনকে ইউনেস্কো বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে ২০০৭ সাল নাগাদ কিছু চালক চীনা মোটর ও সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহার করে রিকশাকে বিদ্যুৎচালিত করে তোলেন। পরে এই ধারাই ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।তবে সাধারণ মানুষের কাছে এ বাহনটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও ব্যাটারি চালিত এসব রিক্সার কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। আর এর নির্দিষ্ট কারণও আছে। এসব রিক্সাগুলো কাঠামোগতভাবে খুবই দুর্বল। তাছাড়া মোটরচালিত হওয়ায় এটির গতি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। আর এতেই বাড়ছে দুর্ঘটনা। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একটি এনজিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ব্যাটারি চালিত রিক্সা দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৭০ জন। আর চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত মারা গেছেন আরও ৩৭৮ জন।উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ হলো, এসব রিক্সাতে মূলত সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। মেয়াদ শেষে এসব ব্যাটারি অবৈধভাবে রিসাইকেল করা হয়। এর ফলে বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ায়। যা পরবর্তীতে নিঃস্বাসের সাথে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি শিশুর রক্তে বিপজ্জনক মাত্রায় সীসা পাওয়া গেছে। এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মারাত্মক ক্ষতির কারণ।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটিকে এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপও আশা করেছেন তারা। অবশ্য এর আগে বিভিন্ন সময় এসব অটো রিকশার ‘অব্যবস্থাপনার’ বিরুদ্ধে উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার এনিয়ে একটি খসড়া আইনও প্রণয়ন করে। যেখানে এসব যানবাহনের গতি সীমা নির্ধারণ ও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে চালকদের ক্ষোভ এবং দুর্বল নীতিমালার কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
