মস্তিষ্ক বা মগজ মানবদেহের সবচেয়ে কার্যকরী একটি অঙ্গ। ইংরেজিতে ব্রেন বা গ্রে ম্যাটার বলে। এই মস্তিষ্ক মানবদেহের সিংহভাগ কার্যকলাপই নিয়ন্ত্রণ করে। তবে, কিছু বিশেষ কাজের জন্য মানব মস্তিষ্ককে অসাধারণ বিশেষণ দিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কিডস। হাঁটাচলাসহ শরীরে বিভিন্ন গতিবিধিকে ত্বরান্বিত করতে মস্তিষ্কের কোষ বা নিউরন রাসায়নিক এবং একই সাথে বৈদ্যুতিক সংকেত প্রেরণ করে। মস্তিষ্কের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করা অনেক বেশি প্রয়োজন। যদিও সাধারণত হৃদরোগ, স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির দিকে অনেকে মনোযোগ দেন, মস্তিষ্কের যত্ন তেমনভাবে আলাদাভাবে নেওয়া হয় না। তবে খুব সহজ অভ্যাস দিয়েই শুরু করা যায় মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়ার কাজ। নিউরোসার্জারির সহযোগী পরিচালক ডাঃ হৃষিকেশ চক্রবর্তী জানিয়েছেন তেমন কিছু সহজ অভ্যাস।মস্তিষ্ক-উপকারী খাবার: শাকসবজি, বেরি, মাছ, বাদাম এবং শস্যজাতীয় খাবার প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। এসব মস্তিষ্ককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যের মতো খাদ্য মস্তিষ্কের অবক্ষয় এবং আলঝাইমার রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন: প্রতি রাতে ৭-৮ ঘন্টা বিশ্রামের ঘুম মস্তিষ্ককে বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করতে, স্মৃতি প্রক্রিয়া ভালো করতে এবং নিজেকে মেরামত করতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের ঝুঁকি বাড়ে।মন সচল রাখুন: মানসিক উদ্দীপনা বৃদ্ধি করতে নিয়মিত জটিল ধাঁধা সমাধান, নতুন দক্ষতার কাজ শেখা, পড়া বা নতুন শখ পূরণে পরিশ্রম করা বেশ কার্যকর। এতে মস্তিষ্কের নতুন সংযোগ তৈরির ক্ষমতা বাড়ে। ব্রেনের বার্ধক্য গতি ধীর করে এবং মনকে তীক্ষ্ণ করতে সাহায্য করে।সামাজিকভাবে কাজ করুন: সকলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দলগত কার্যকলাপে অংশগ্রহণ হতাশা এবং অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে। সামাজিক সম্পৃক্ততার সাথে উন্নত মানসিক তৎপরতা হয়।মাথার ক্ষতিরোধ: যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথায় আঘাত পাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। সাইকেল চালানো বা খেলাধুলা করার সময় সর্বদা হেলমেট পরতে হবে। যানবাহনে সিটবেল্ট ব্যবহার করুন। যেকোনো বয়সে পড়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে নিরাপদ থাকার চেষ্টা করুন।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
