চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার হাজতে বসে মোবাইল ব্যবহার করছেন ‘জালাল উদ্দিন শাহ’ ওরফে ইয়াবা জালাল। এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় থানার ভেতরে আসামিদের ‘বিশেষ সুবিধা’ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।বুধবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার পারকি বাজার এলাকা থেকে মো. জালাল উদ্দিন (৪৫) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আনোয়ারা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত জালাল উদ্দিন উপজেলার দুধকুমড়া গ্রামের শেখ মোহাম্মদ শাহ’র ছেলে। তাকে হাজতে রাখার পরপরই তার মোবাইল ব্যবহারের একটি ছবি ভাইরাল হয়।সূত্র জানায়, ওই সময় থানায় দায়িত্বে থাকা অফিসার কবির তাকে মোবাইল ব্যবহারে সহায়তা করেন। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের নজরে আসলে জালালকে সরিয়ে অন্য একটি হাজতে স্থানান্তর করা হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি বলেন, ‘সাধারণ আসামিদের এ ধরনের সুবিধা দেওয়া হয় না। যারা পান, তারা উপরের অনুমতি নিয়েই এসব সুবিধা ভোগ করেন।’এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার কবির প্রথমে বলেন, ‘আমি দিনের বেলায় ডিউটিতে ছিলাম, আপনি অন্য ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথা বলুন।’ পরে তিনি জানান, ‘আমার সামনে আসামি মোবাইল ব্যবহার করেনি। তাকে এনেছে এসআই সাদ্দাম, তাকেই জিজ্ঞেস করুন।’স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, থানায় অর্থের বিনিময়ে আসামিদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা-সাক্ষাৎ, মোবাইলে কথা বলা, এমনকি মুখরোচক খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।এদিকে আনোয়ারা থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতারের পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। হাজতে বসে মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত জালাল উদ্দিন স্থানীয় যুবলীগ নেতা। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকেও একটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
