যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার হামলায় গত প্রায় সাড়ে তিন বছরে ইউক্রেনে তিন হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে। ইউক্রেনে শিশুদের হতাহতের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের জনবহুল বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে নির্বিচারে হামলা চালানোয় গত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যেই অন্তত ২২২ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৯ জনে। জাতিসংঘ বলছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।ইউক্রেনের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে স্কুল, হাসপাতাল এবং শিশুদের উপস্থিতির জায়গায় ইচ্ছে করে হামলা করছে। ইউক্রেনিয়ান চাইল্ড রাইটস নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান দারিয়া কাসিয়ানোভা বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে শিশুদের উপস্থিতির জায়গা ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো যুদ্ধাপরাধ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বলেছে, রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনে বহুবার নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে, যা হাজার হাজার বেসামরিক প্রাণহানির কারণ হয়েছে। এসব হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত।জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধ যদি শেষও হয়ে যায়, তবু ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বেশি বিস্ফোরক দ্রব্য ও ল্যান্ডমাইন-বেষ্টিত দেশগুলোর একটি, যা ভবিষ্যতেও শিশুদের জন্য মৃত্যুঝুঁকি বহন করবে। যুদ্ধের মধ্যেই যেসব শিশু বেঁচে গেছে, তাদের অনেকের শারীরিক ও মানসিক ক্ষত সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। ইউনিসেফের একটি জরিপে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রতি পাঁচজন শিশুর একজন যুদ্ধের কারণে মা-বাবা, ভাইবোন বা বন্ধু হারিয়েছে।এদিকে ইউক্রেনে হামলা বন্ধে রাশিয়াকে আবারও আলটিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স জানিয়েছে, এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ থামাতে রাশিয়াকে দেওয়া ৫০ দিনের সময়সীমা তিনি ১০ দিনে নামিয়ে এনেছেন। এর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর ওপর শুল্ক আরোপ শুরু করবে এবং অন্যান্য পদক্ষেপও নেওয়া হবে।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
