অনলাইন ক্যাসিনো বা জুয়া একটি ভয়ংকর আতঙ্কের নাম। এক ধরনের কৌতূহল থেকে তরুণ প্রজন্ম জুয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছে। এতে করে লোভে পড়ে হাজার হাজার টাকার বিনিয়োগের এক পর্যায়ে হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরের বিভিন্ন এলাকার স্কুলপড়ুয়া ছাত্র থেকে শুরু করে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ অনেকেই অনলাইন ক্যাসিনো নামের জুয়ায় মত্ত।মহানগরীর জুয়ারিরা ওয়ান এক্স রিট এবং লাইন এক্স বিটে দুটি অনলাইন জুয়ায় সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট ও আসক্ত। খেলায় এতটাই আসক্ত যে, মাদকের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনকি প্রায় প্রতিটি বাজারেই আড্ডার আড়ালে চলছে রমরমা অনলাইন ক্যাসিনো নামের জুয়া।অনেকেই আবার এই জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বেছে নিচ্ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো মারাত্মক অপরাধ। যার কারণে সমাজে জুয়াড়িরা বিরাজ করছে এক ধরনের দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা। অনলাইন জুয়ায় টাকা-পয়সা নষ্ট করে পারিবারিকভাবে অশান্তিতেও ভুগছে অনেকেই।এছাড়াও বাড়ছে পারিবারিক কলহসহ নারী নির্যাতনের মতো ভয়াবহ অপরাধ। সব মিলিয়ে চরম বিপদগামী হচ্ছে আসক্তরা। অন্ধকারে ঢেকে আসছে সমাজ ব্যবস্থা। এমনকি অনলাইনে ক্রিকেট খেলার বিপিএল, আইপিএল নিয়েও চলে উইকেট বাজি, ফুটবলের নানা ধরনের লীগ ম্যাচের উপর গোলের বাজি তো আছেই।অনুসন্ধানে জানা যায়, সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে এই অনলাইন ক্যাসিনো নামের জুয়া। তবে এসব ক্যাসিনোর মালিক কে বা কাহারা সেটা সবারই অজানা থাকলেও চলছে হাজার হাজার টাকা বাজি। জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপের ব্যবহার ও ক্যাসিনো খেলার নিয়ম ফেসবুক পেজ, ইউটিউবসহ নানা সাইটে বিজ্ঞাপন আকারে ভাসতে দেখা যায়।এমনকি টাকার বিনিময়ে গ্রুপের সদস্য হওয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে। চাওয়া হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, নাম, বয়স, জন্ম তারিখ ও মোবাইল ফোন নম্বর। আর এসব তথ্য দিলেই জুয়ার গ্রুপে মেলে সদস্য হওয়ার অনুমতি।আরো জানা যায়, জুয়ার এসব সাইটগুলো অধিকাংশই পরিচালনা করা হয় রাশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে। বিদেশ থেকে পরিচালিত এসব সাইট পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের এজেন্টরা।জুয়ায় হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে বিদেশে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বাজারের বিভিন্ন চা-স্টলে, গুদাম ঘরে, প্রতিষ্ঠানের ছাদে, খোলা মাঠে ও বাড়িতে শুয়ে শুয়ে চলছে ক্যাসিনো মতো ভয়ংকর জুয়ার আসর। মাদকের চেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিটি পাড়া মহল্লার আনাচে কানাচে।এখনই যদি এটা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিহত করা না হয়, তাহলে অচিরেই ঘোর অন্ধকারে ঢেকে যাবে ভবিষ্যৎ জীবনের উজ্জ্বল নক্ষত্র।কাশিমপুরের প্রত্যেক এলাকার বাজার কেন্দ্রিক নিরিবিলি স্থান, চা-স্টল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, ফাঁকা ক্লাস রুম ও নদীর চরগুলোতে এ জুয়া খেলার বিশেষ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে ডিজিটাল ক্যাসিনোর জুয়ারিরা।এসব জুয়া বন্ধে প্রশাসনের কাছে জোর নজরদারি কামনা করেন স্থানীয় সুশীল সমাজের বিশিষ্টজনরা। মহানগর জুড়ে এসব অনলাইন ক্যাসিনো বন্ধে বা ক্যাসিনো জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে তথ্যের অভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারছেনা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।অথচ এসব সামাজিক অপরাধ নির্মূলের জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডে রয়েছে বিট পুলিশিং কমিটি। কমিটির কার্যালয় ও সদস্যরা বিভিন্ন এলাকার অনেকটাই বাজার কেন্দ্রিক। ওইসব সদস্যরাও অনলাইন জুয়ার দৃশ্য দেখেও কোনো পদক্ষেপ নেয় না বলে জানান বিভিন্ন এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা।এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোনাবাড়ী জোন) আবু নাসের আলামিন বলেন, ‘অনলাইন ক্যাসিনো বা জুয়া সম্পর্কে আমিও শুনেছি। তবে দৃশ্যমান জুয়ার চেয়ে অনলাইন জুয়া খেলা শনাক্ত করা অনেকটাই জটিল। এ জুয়া সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কেউ পুলিশকে তথ্য দেয়নি। সঠিক তথ্য পেলে অভিযান চালিয়ে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
