গাজীপুরের কালিয়াকৈর-মাওনা ২০ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের সৌন্দর্য আকৃষ্ট করে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গজারি গাছ যেন সড়কটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। তবে এসব সৌন্দর্য ছাপিয়ে দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র। ওই সড়কে প্রতিনিয়তই ঝরে যাচ্ছে তাজাপ্রাণ। এদিকে সড়কটিতে রাতে ডাকাতি আর দিনে দুর্ঘটনা; চলাচলে আতঙ্কে স্থানীয়রা। গত দেড় মাসে এ সড়কে অর্ধশত দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছেন অন্তত ২৫ জন ও আহত হয়েছে শতাধিক। মাওনা হয়ে ময়মনসিংহ যাওয়া যায় খুব সহজে এই সড়কে। সড়কটি আঞ্চলিক হলেও ২০ থেকে ২৫ ফুট প্রশস্ত। ফলে প্রতিদিন শত-শত যানবাহন চলাচল করে এ সড়কে। তবে সড়কটি দিয়ে যাওয়ার সময় ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। সম্প্রতি এক দুপুরে কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের বড়চালা এলাকায় হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ বাবাকে দেখতে যাওয়ার পথে একই পরিবারের তিনজনসহ ৫ জনের মৃত্যু হয় এ সড়ক দুর্ঘটনায়। গত শুক্রবার সকালেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি কাভার্ড ভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি দুমড়েমুচড়ে যায়। চালকদের ভাষ্যমতে, এ সড়কের বাঁকগুলোর এক পাশ থেকে অন্য পাশে দেখা যায় না। এতে অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় চালকরা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। দুই পাশে ঝোপঝাড়গুলো পরিষ্কার থাকলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়াও স্থানীয়রা বলেন, কালিয়াকৈর-মাওনা ২০ কিলোমিটার সড়কের শতাধিক বাঁক রয়েছে। দুই পাশে গভীর বন থাকায় সামনের যানবাহন কম দেখা যায়। তাছাড়া ফাঁকা রাস্তা থাকায় গাড়ির গতি বেশি থাকে। ফলে সড়কের বাঁকে গিয়ে তারা কন্ট্রোল করতে পারে না, এর ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে সিএনজি ও ট্রাকের দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। আমরা এ সড়কে এখন চলাচল করি জীবন হাতে নিয়ে। বিভিন্ন মাটিবাহী ট্রাক চলাচল করে, ফলে মাটি সড়কে পড়ে বৃষ্টির পানিতে সেটি আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এমনকি নির্জন রাস্তা হওয়ায় এ সড়কে ডাকাতের কবলেও পড়তে হয় অনেককেই। দ্রুত এ সড়কে সব ধরনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জেলা সভাপতি রাকিব হাসান বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আঞ্চলিক সড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ করতে হবে। ১০ মিনিট পর পর মাওনা পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস চলাচল করার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিদিন এ সড়কে দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এ সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত শনিবার ওই সড়কে দুর্ঘটনা প্রতিকার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে তারা মানববন্ধন প্রত্যাহার করেন। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার আহামেদ বলেন, ইতোমধ্যেই কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কে নিরাপত্তা জোরদার ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিএনজি চালকদের সড়কের প্রতিটি বাঁকে গতি কমিয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
