ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত টার্মিনাল-৩ এর কাজ প্রায় শেষ। তবে কবে নাগাদ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টার্মিনালটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হবে জাপানের ছয়টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামকে। কিন্তু চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ‘জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না কবে নাগাদ টার্মিনালটি চালু হবে। তবে আশা করা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই এটি চালু করা সম্ভব হবে।’এর আগে, গত ১৯ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জানান, টার্মিনাল-৩ এর নির্মাণকাজ ৯৯.১৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। কিন্তু কবে উদ্বোধন হবে, তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।জানা গেছে, টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে একটি বিশেষায়িত জাপানি কনসোর্টিয়াম, যেখানে রয়েছে দুটি সরকারি ও চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে নেতৃত্বে থাকবে বেসরকারি খাতের সুমিতোমো করপোরেশন। অংশীদার হিসেবে থাকছে জাপানের মিনিস্ট্রি অব ল্যান্ড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম (MLIT) এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা।বাংলাদেশ সরকার ‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব’ (PPP) মডেলে এই চুক্তি করতে যাচ্ছে। বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, খসড়া চুক্তির জন্য কনসোর্টিয়ামকে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ পাঠানো হয়েছে। পিপিপি আইনে তারা সর্বোচ্চ এক মাস সময় নিতে পারবে অর্থাৎ আগামী এক মাসের মধ্যেই চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।তবে চুক্তি হওয়ার পরপরই টার্মিনাল চালু হবে না। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগবে।টার্মিনাল-৩ থেকে দুটি ধরনের আয় হবে অ্যারোনটিক্যাল ও নন অ্যারোনটিক্যাল।অ্যারোনটিক্যাল আয়: অ্যামবার্কেশন ফি ও বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহারের ফি আদায় করবে জাপানি কনসোর্টিয়াম।নন-অ্যারোনটিক্যাল আয়: বিমানবন্দরের ভেতরের দোকান, পার্কিং, ভাড়া ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম।এই আয়ের মাধ্যমেই জাইকার দেওয়া ১৬ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করা হবে। যা টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে মোট ২২ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।বেবিচক জানিয়েছে, এই রাজস্ব থেকে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বাদে অবশিষ্ট আয়ের একটি অংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম, বাকিটা বাংলাদেশ সরকারের ঘরে যাবে।সরকার ইতোমধ্যেই নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, টার্মিনাল-৩ এর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাবে।বিশ্বখ্যাত সিঙ্গাপুর চাঙ্গি বিমানবন্দরের নকশাকার রোহানি বাহারিনের ডিজাইনে তৈরি এই টার্মিনালটিকে বলা হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অত্যাধুনিক স্থাপনাগুলোর একটি।রয়েছে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের সুবিধা, ১৬টি ব্যাগেজ বেল্ট এবং অতিরিক্ত ব্যাগের জন্য ৪টি পৃথক বেল্ট, বহুতল গাড়ি পার্কিং, যেখানে ১,০৪৪টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।তবে অতিরিক্ত ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে, যার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি এখনো।টার্মিনাল-৩ এর নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। চুক্তি সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে আগামী ৬-৭ মাসের মধ্যে এই টার্মিনাল চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
