চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উপকূলজুড়ে আবারও শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। টানা বৃষ্টি, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং আটকে পড়া জাহাজের ধাক্কায় সাগরের ঢেউয়ে হুমকির মুখে পড়েছে শতবর্ষী কবরস্থান, মসজিদ ও মাদ্রাসা। স্রোতের তীব্রতায় ভেঙে পড়ছে জিও ব্যাগ।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র পরবর্তী উত্তাল সমুদ্রে ‘মারমেইড-৩’ নামক একটি বার্জ ও ‘নাভিমার-৩’ নামক একটি টাগবোট ভাসতে ভাসতে এসে থেমে যায় উঠান মাঝির ঘাট উপকূলে। দেড় মাস পার হলেও এখনো জাহাজ দুটি সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে সৃষ্ট পানির চাপ ও স্রোতের কারণে মসজিদ হুমকির মুখে, পাশের কবরস্থান বিলীন হয়েছে বহু আগেই।ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের কমিটি সদস্য নুরুল আলম জানান, ‘জাহাজ দুটি এখানে এসে দাঁড়ানোর পর থেকেই উপকূলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মসজিদ, এতিমখানা এবং কবরস্থান সবই সাগরে মিশে যাবে।’সূত্র জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জাহাজ দুটি গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে জব্দ রয়েছে। জাহাজ দুটি বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় জোয়ার-ভাটার স্রোতে কখনো কুতুবদিয়া, কখনো মগনামাসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ভেসে বেড়ায়। সর্বশেষ গত মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র আঘাতে গহিরা উঠান মাঝির ঘাট উপকূলে আটকে পড়ে। আর এতে কপাল পুড়েছে স্থানীয়দের। যার প্রভাবে ভাঙনের তীব্রতা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ দুটির পাহারার দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।স্থানীয় একটি হেফজখানার পরিচালক আজগর আলী বলেন, ‘৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে সব কিছু বিলীন হয়ে গেলেও এই মসজিদ আর কবরস্থানটি ছিল। প্রায় ৩৪ বছর পর জাহাজের কারণে মসজিদ, এতিমখানা ও কবরস্থান সম্পূর্ণ বিলীনের পথে। পানির ঢেউয়ে কবর ভেঙে উঠে গেছে পুরোনো দুটি লাশের কঙ্কাল। পরে পার্শ্ববর্তী একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।’এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ বলেন, ‘জাহাজ দুটির কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। আমরা জিও ব্যাগ দিয়ে সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করছি এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে যেন দ্রুত জাহাজ দুটি সরিয়ে নেওয়া হয়।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
