রাস্তার মাঝখানে বড় বড় গর্ত। হেলেদুলে চলছে যানবাহন, যেন ঢেউয়ের তালে দুলছে সবকিছু। এমন পরিস্থিতিতে কিশোরগঞ্জ শহরের একরামপুর থেকে সতাল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিমিজুড়ে কার্পেটিং উঠে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এতে করে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, যাত্রী ও পথচারীরা। ভোগান্তির এই যাত্রায় অনেক সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।বৃষ্টির পানি-কাদায় একাকার। কাদাপানি ছিটকে কাপড়চোপড় নষ্ট হচ্ছে। দিনদিন এসব খানাখন্দ বড় হচ্ছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে উল্টে পড়ছে যানবাহন। প্রায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গত এক মাসে সড়কের গর্তে উল্টে পড়েছে অন্তত দশটি গাড়ি। প্রতিনিয়ত এ সড়কে যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, যাত্রী ও পথচারীরা। বৃষ্টি হলেই সড়কের এ অংশটিতে পানি জমে যায়। ফলে গাড়ি চালাতে গিয়ে চালকরা পড়ছেন বিপাকে। গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ি, দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন যাত্রীরা। এর বেহাল অবস্থার কারণে সার্বিক যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেবে গেছে। আবার কোথাও উঁচু হয়ে ফেটে গেছে। এই সড়কে এখন যানবাহন চলছে হেলেদুলে। আবার সড়কের কোনো কোনো অংশ রয়েছে কাদা-পানির দখলে। বৃষ্টির পানি জমে সড়কের একেকটি গর্ত যেন পরিণত হয়েছে ছোটখাটো ডোবায়। এমন বেহাল দশা কিশোরগঞ্জ শহরের একরামপুর থেকে সতাল পর্যন্ত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর কাছে এ সড়ক এখন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সড়কটিতে মাজা (কোমর) ভাঙার দশা। মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও এ অবস্থা থেকে তারা নিস্তার পাচ্ছেন না।কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়া বন্দর হয়ে হাওর এলাকার মানুষের জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা হওয়ায় কয়েক লাখ লোক প্রতিদিন দুর্ভোগকে সঙ্গী করে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করলেও মেরামতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একেবারেই উদাসীন। বাস, ট্রাক, পিকআপ, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলচালকেরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এ সড়কে গাড়ি চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। দ্রুত সড়ক নির্মাণ কাজের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়া বন্দর সড়কটি মহাসড়কে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। তবে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।করিমগঞ্জ উপজেলা গুয়াদিয়া টামনি ইসলামপুর এলাকার ব্যাংকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের এই সড়কে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু রাস্তার যে বেহাল দশা, এতে করে আমাদের চলাফেরা করতে খুবই কষ্ট হয়। তা ছাড়া অসুস্থ রোগীরা এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সড়কের বেহাল দশার কারণে সম্প্রতি আমি নিজেও মোটরবাইক অ্যাক্সিডেন্ট করে আহত হই। প্রতিনিয়তই এ সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষ। আশা রাখছি দ্রুত এই সড়কটি সংস্কারে সরকার পদক্ষেপ নেবে। না হলে এই জনপদের মানুষ খুবই অসুবিধার মধ্যে পড়বে।কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী মেহবুবা আলম রোদসী বলেন, ভাঙা সড়কটির কারণে কলেজে যেতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়। গাড়ির ঝাঁকুনিতে আমাদের শরীরে সমস্যা দেখা দেয়। একদিন কলেজে গেলে পরের দিন আর যেতে পারি না। শরীরে ক্লান্তিবোধ হয়। এতে ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার।স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এই করুণ অবস্থা। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও কয়েক লাখ মানুষ এই রাস্তায় চলাচল করে। অথচ বছরের পর বছর ধরে সংস্কার করা হয় না। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়, দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। সড়কটির এমন অবস্থা, কোনো লোক অসুস্থ হলে যে হাসপাতাল নিয়ে যাব সেটিও এখন দুষ্কর। সড়কের মাঝখানে এমন গর্ত সৃষ্টি হয়েছে যেন মাছ চাষ করা যাবে! সোজা কথা, সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট জেলা মহাসড়কের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি এলএ মামলার মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে আমরা প্রায় সবগুলোরই হস্তান্তর করেছি, একটি এলএর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যে বিষয়টি এখানে উত্থাপিত হয়েছে, সতাল পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের টাকা ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে টাকা প্রদান করা হয়েছে। স্থাপনাটা ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমরা পর্যাপ্ত স্পেস পেয়ে গেলে দ্রুত কাজটা শুরু করতে পারবো। এক মাসের মধ্যে কাজটা শেষ করতে পারবো। ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে চূড়ান্তভাবে সমাধান করা যাচ্ছে না। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যেন ড্রেনেজ ব্যবস্থাটার সমাধান করা যায়। পৌরসভার সাথে এ বিষয়ে সার্বিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত বছরের (৪ ডিসেম্বর) শহরের একরামপুর রেলগেইট থেকে কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ সড়কের সতাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের দাবিতে এক কিলোমিটার রাস্তা অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছিল ৫টি মাদ্রাসা, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার প্রায় ৫ হাজার মানুষ।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
