বান্দরবানে বিভিন্ন ঘটনায় বহুল আলোচিত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম খানকে চাকরি থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। জানা যায়, বছরের পর বছর নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত মাসিক বেতন ভাতা সহ সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন এই কর্মকর্তা। এছাড়াও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন, অফিসে কর্মচারীদের সাথে সীমাহীন দূর্ব্যবহার করেন এই কর্মকর্তা। এই বিষয়ে ২১ এপ্রিল ২০২৪ সালে ২টি সংবাদ মাধ্যমে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন কর্মকর্তা দিয়ে চলছে থানচি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস’ এই শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছিল। শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম খানের এমন অশালীন ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের পরও তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। ঘটনার দীর্ঘদিন পর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (তৎকালীন) মো: নূর-ই-আলমকে মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে ‘স্কাউন্ড্রেল’ বলে গালিগালাজ করে চাকরি হারাচ্ছেন বান্দরবানের থানচি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আসলাম খান। গত ১৭ জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবায়ের স্বাক্ষরিত তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না জানতে চেয়ে ২য় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, যেহেতু মো: আসলাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, থানচি, বান্দরবান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, লাখাই, হবিগঞ্জ কর্মকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গত ২৭/১১/২০২৩ তারিখ অনলাইন-প্ল্যাটফর্মে মাঠপর্যায়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণের আয়োজনে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মো: নূর-ই-আলম, যুগ্মসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় উক্ত প্রশিক্ষণে আমন্ত্রিত প্রশিক্ষক হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন। সেশন পরিচালনার শুরুতেই সেশনটিকে মিথস্ক্রিয় করার উদ্দেশ্যে মো: নূর-ই-আলম, যুগ্মসচিব কর্তৃক সকল প্রশিক্ষণার্থীকে ভিডিও মোড চালু রাখার জন্য অনুরোধ জানান। অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীগণ ভিডিও মোড চালু করলেও আপনি ভিডিও মোড বন্ধ রাখেন। এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চাওয়া হলে আপনি জানান, ‘আমি প্রশিক্ষণে উপস্থিত আছি, আমার ভিডিও মোড চালু কেন করতে হবে, আপনার প্রশিক্ষণ আপনি করান’। তখন প্রশিক্ষণের শিষ্টাচারের বিষয়টি আপনাকে অবহিত করা হয় এবং প্রশিক্ষকের প্রশিক্ষণ পরিচালনা কৌশলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়। এরূপ অবস্থায় সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সেশন পরিচালনার স্বার্থে আপনাকে ডিসকানেক্ট করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা মো: ইউসুফ রহমান-কে অনুরোধ জানানো হলে আপনি ক্ষিপ্ত হয়ে নূর-ই-আলম, যুগ্মসচিব-কে ‘স্কাউন্ড্রেল’ বলে গালিগালাজ করেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ০৪/০১/২০২৪ তারিখে ৩৭.০০.০০০০, ৯৫.৯৯.৩৪.২০২৩.০৩ নং স্মারকে আপনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। আপনি উক্ত কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব প্রদান করেননি, যা কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্যের সামিল হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। উক্ত মামলায় আপনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়; এবং যেহেতু আপনি রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব প্রদান করেননি, আপনার বিরুদ্ধে বর্ণিত বিভাগীয় মামলায় গুরুদণ্ড আরোপের পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(২)(ঘ) অনুযায়ী আনীত অভিযোগ তদন্তের জন্য আবু ছালেহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত), বান্দরবান পার্বত্য জেলা-কে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়; এবং যেহেতু তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে আপনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে ও তদন্তের সময় আপনি যে লিখিত বক্তব্যে দিয়েছেন তা অবান্তর ও অযৌক্তিক এবং সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের শব্দ চয়ন করা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর পর্যায়ভূক্ত অপরাধ; এবং সেহেতু, আপনি মো: আসলাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, থানচি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা-কে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আপনার বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ায় একই বিধিমালার ৭(৯) বিধি অনুযায়ী কেন আপনাকে চাকরি হতে বরখাস্ত বা বিধিতে বর্ণিত অন্য কোনো গুরুদণ্ড প্রদান করা হবে না তার জবাব এ নোটিশ প্রাপ্তির ০৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আসলাম খান গত দুই বছর ধরে তার নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে তিনি তার বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। বর্তমানে একই জেলার লামা উপজেলায় বসবাস করছেন। মাধ্যমিকের এই শিক্ষা কর্মকর্তা যে মানসিক ভারসাম্যহীন সে বিষয়ে থানচি উপজেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ শিক্ষা বিভাগের অনেক কর্মকর্তাই জানেন। বিষয়টি জানার পরেও তাকেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রেখেছেন। শুধু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাই নয়, স্থানীয় সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ করতে ছাড়েননি তিনি।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
