রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন ১৬৪ জন। এ দুর্ঘটনার পর থেকেই এই যুদ্ধবিমানের উৎপত্তি, নির্মাতা এবং বর্তমান প্রযুক্তিগত অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে।এফ-৭ বিজিআই মডেলটি চীনের তৈরি একটি যুদ্ধবিমান। এটি মূলত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মিগ-২১ মডেলের ভিত্তিতে নির্মিত। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়, যার আওতায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ১৬টি আধুনিকায়নকৃত যুদ্ধবিমান পায়। ২০১৩ সালের মধ্যে এসব বিমান সরবরাহ সম্পন্ন হয়।চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন এই বিমানগুলোর নির্মাতা। এসব বিমানে অত্যাধুনিক ককপিট, মাল্টি-ফাংশনাল ডিসপ্লে, শক্তিশালী ফায়ার কন্ট্রোল রাডার এবং প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা সংযুক্ত রয়েছে।উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চেংদু এয়ারক্রাফ্ট করপোরেশন বর্তমানে চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। তারা বর্তমানে ৫ম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির ফাইটার জেট তৈরি করছে। বিশেষ করে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই বর্তমানে চীন নিজেদের প্রথম স্টেলথ যুদ্ধবিমান তৈরি করতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো মার্কিন এফ-২২ ও এফ-৩৫ এর সমকক্ষ হবে। এর পাশাপাশি তারা মনুষ্যবিহীন ড্রোন (UAV) এবং বেসামরিক বিমান উৎপাদনেও সক্রিয়। বাংলাদেশে এফ-৭ মডেলের বিজিএম বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা এটি প্রথম নয়। এর আগে, ২০১৮ সালে টাঙ্গাইলের ফায়ারিং রেঞ্জে, ২০২১ সালে চট্টগ্রাম থেকে উড্ডয়নের পর বঙ্গোপসাগরে বিধ্বস্ত হয় এই মডেলের বিমান। দুইবারই বিমানের পাইলট নিহত হয়েছিলেন। ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে এফ-৭ সিরিজের নিরাপত্তা নিয়ে। যদিও প্রযুক্তিগতভাবে এই মডেলের বিমান অনেক পুরোনো তবুও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ সীমিত বাজেটে ও প্রশিক্ষণ কাজে এটি ব্যবহার করে আসছে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হাতে বর্তমানে মোট ৩৬টি এফ-৭ সিরিজের যুদ্ধবিমান রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই এফ-৭ বিজিআই। এছাড়াও এফ-৭ এমবি এবং এফটি-৭ ট্রেনার মডেল রয়েছে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
