বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা গ্রামে সন্ধ্যা নদীর উপর সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে অন্তত ৫০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। বিকল্প পথ না থাকায় স্থানীয়রা প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্করা।স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে সেতুর দাবি জানিয়ে বিভিন্ন দফতরে ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রয়োজনের তাগিদে শতবর্ষ পুরোনো খেয়াঘাটই এখন একমাত্র ভরসা হলেও, এলজিইডি কিংবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।১০ কিলোমিটার ঘুরে সেতু, নতুবা নৌকায় ঝুঁকি। সন্ধ্যা নদীর পূর্ব পারে অবস্থিত পয়সারহাট, বাগধা ও আমবৌলা গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিদিন ১০ কিলোমিটারের বেশি ঘুরে গোপালগঞ্জ-খুলনা মহাসড়কের পয়সারহাট সেতু ব্যবহার করে পারাপার হন। অথচ সেতু নির্মিত হলে সরাসরি যোগাযোগে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হতো।বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে। নদীর পশ্চিম পাশে রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ফলে পূর্ব পাড়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। খেয়ায় সময় লাগে ১০-১৫ মিনিট, অথচ ঘুরে গেলে তা দাঁড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা।এলাকাবাসী জানান, সেতুর অভাবে এই অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। নদীর এপারে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা। অপর পারে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউপি কার্যালয়। তাই ওপারের অন্তত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে নদী পার হয়ে পশ্চিম পারে আসতে হয়।অন্যদিকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউপি কার্যালয় ওপারে, অর্থাৎ নদীর পূর্ব পারে অবস্থিত হওয়ায় গ্রামবাসীদের প্রতিদিনই ওপারে যেতে হয়। পয়সারহাটে অবস্থিত সেতু ঘুরে যাতায়াতে অনেক সময় লাগে। এ জন্য আমরা এই খেয়ার মাধ্যমেই নদী পার হয়ে থাকি।নদীতে ভাটির সময় খেয়া নৌকা কিনারায় না আসাসহ ঝড়-বৃষ্টির সময় নৌকায় উঠতে ও নামতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। এত সব সমস্যা থাকা সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই খেয়ার মাধ্যমে নদী পার হতে হয়।স্থানীয় শিক্ষক মজিবর বলেন, ব্যবসায়ীদের পেশার কারণেই তাদের প্রতিদিন এপার থেকে ওপারে যেতে হয়। একেকবার খেয়া পার হতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লেগে যায়। তাই এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে উপকৃত হবে এই গ্রামের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ হাজারো লোকজন। তাই আমরা এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি করছি।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বাবু রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, বাগধা খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের এখনো কোনো পরিকল্পনা নেয়া হয়নি। গত বছরের নদীর দুই পাশে ঘাটলা স্থাপনা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে টেন্ডার হলে ব্রিজের কাজ ধরা হবে।এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সেতু নির্মাণের। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে জানান স্থানীয়রা।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
