ময়মনসিংহ জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের সার্ভেয়ার সুদেব কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তাকে বদলির পর ফের ময়মনসিংহে আনা হয়েছে সংযুক্তিতে। বদলির পরও মাসের পর মাস ময়মনসিংহেই থেকে যাওয়া, আবার মাত্র ২৯ দিনের মাথায় সংযুক্তিতে একই জায়গায় ফেরা—সব মিলিয়ে উঠেছে অদৃশ্য প্রভাবের প্রশ্ন।এদিকে স্থানীয় নাগরিক সমাজের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম করেও থেকে যাওয়া, বদলি ঠেকিয়ে রাখা এবং পরে দ্রুত ফেরত আসা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নীরব মদদ ছাড়া সম্ভব নয়।ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মার্চ সুদেব কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ করেন কামরুল হাসান নামে এক ভুক্তভোগী। অভিযোগে বলা হয়, পেনশন ফাইল প্রস্তুতে ২৫ হাজার, জি.পি.এফ লোনের জন্য ৫–৭ হাজার, চূড়ান্ত উত্তোলনে ২০ হাজার এবং পাসপোর্ট অনাপত্তি সনদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন তিনি। এছাড়া শিল্পাঞ্চল ভালুকায় ডিজিটাল জরিপের নকশা তৈরিতে ১০–১২ হাজার টাকা করে নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তর ময়মনসিংহ জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রতিবেদন অধিদপ্তরে যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের একাধিক সূত্র।এরই মধ্যে এসব অভিযোগের কারণে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. লিয়াকত আলীর সই করা এক অফিস আদেশে সুদেব কুমার মন্ডলকে রাজশাহী জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে শূন্য পদে বদলি করা হয়। তবে অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে তিনি তখনও ময়মনসিংহেই ছিলেন।এ বছর ৪ জুন ময়মনসিংহ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ১৫ জুন রাজশাহী জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের অধীন নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার সেটেলমেন্ট অফিসে যোগদান করেন তিনি। কিন্তু মাত্র ২৯ দিনের মাথায় ১৩ জুলাই ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের আরেক অফিস আদেশে তাকে আবারও ময়মনসিংহে তিন মাসের সংযুক্তিতে পদায়ন করা হয়।বদলি নিয়ে কথা বলতে চাইলে সার্ভেয়ার সুদেব কুমার মন্ডল বলেন, ‘কিভাবে বদলির আদেশ হয়েছে আমি জানি না। বদলির জন্য আমি কোনো তদবিরও করিনি। আমি ময়মনসিংহ যেতেও চাই না।’ময়মনসিংহ জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার লীরা তরফদার বলেন, ‘সার্ভেয়ার সুদেব ময়মনসিংহে যোগদান করবে না মর্মে আবেদন করেছে।’বদলির আদেশে মাত্র মাসখানেকের ব্যবধানে আবারও আলোচিত এলাকায় ফিরিয়ে আনা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যদি তদন্তে তার অনিয়ম প্রমাণিত হয়ে থাকে, তবে একই জায়গায় পুনরায় বদলি করাটা উচিত হয়নি। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি কিভাবে এমনটা হলো।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
