রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার তারাগঞ্জ বাজারের প্রায় সাড়ে ৪শ মিটার রাস্তা পথচারীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।তারাগঞ্জ বাজারের মূল রাস্তাটি নতুন চৌপথী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বাজারের অগ্রণী ব্যাংক মোড় পর্যন্ত খুবই ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিন হাজারও মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এ রাস্তা দিয়ে লোক চলাচল করে।প্রায় এক বছর আগে নতুন চৌপথী বাসস্ট্যান্ড থেকে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত রাস্তাটির কাজ হয়। এক বছর পার হয়ে গেলেও বাকি অংশ প্রায় সাড়ে ৪শ মিটার রাস্তা পথচারীদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।ইট বিছানো রাস্তাটিতে ইটগুলো ভেঙে গিয়ে বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে থাকে। বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের কারণে এ রাস্তাটিতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।তারাগঞ্জ বাজারের ফল ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমি রাস্তার পাশে ভাড়া করে ফল বিক্রি করে সংসার চালাই। বাজারের এই সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ না করার কারণে আমাদের খুব কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার হলে আমাদের কষ্ট লাঘব হবে।’তারাগঞ্জ বাজারের কসমেটিকস ব্যবসায়ী মাহী রায় বলেন, ‘রাস্তাটি দীর্ঘ দিন যাবত সংস্কার না করার কারণে আমাদের ব্যবসাবাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে লোকজন চলাচল করতে চাচ্ছে না। এরফলে আমরা ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনছি। রাস্তাটি জরুরি সংস্কার হোক, আমরা এটাই চাই।’তারাগঞ্জ বাজারের ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি গরীব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে আমাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। একদিন আমার ভ্যানটি বসে থাকলে আমার পরিবারের সদস্যদের পেটে ভাত যায় না। রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে যাত্রীরা ভ্যানে চড়তে চায় না। নতুন চৌপথী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার পর্যন্ত যাত্রী আনা নেওয়া করি। এতে করে প্রতিজন যাত্রী ৫ টাকা করে দেয়। রাস্তাটি খানাখন্দের কারণে আমাদের আয় কমে গেছে। রাস্তাটির কাজ হলে আমার মতো গরীব যারা আমরা এ রাস্তায় ভ্যান চালাই, তাদের খুব উপকার হবে।’পথচারী আরাফাত হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘কত দিন থেকে রাস্তাটি এভাবে পড়ে আছে যেন কেউ দেখার নেই। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এভাবে খারাপ হয়ে পড়ে আছে, কর্তৃপক্ষ তা দেখছে না। বৃষ্টির দিনে রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাটির কাজ হলে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবো আমরা।’তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এই রাস্তাটি আমাদের নয়। এটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের।’রংপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘তারাগঞ্জ বাজারের সড়কটির ওই অবস্থার কথা জেনেছি। আগামী অর্থ বছরে সড়কের অর্ধেক অংশের কাজ করা হবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
