দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত ১০ মাসে বিভিন্ন অপরাধে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একই সময়ে ৫০০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১০ হাজারেরও বেশি গুলি ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার (১২ জুলাই) ঢাকার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের মহাপরিচালক একে এম শহিদুর রহমান।তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট থেকে এ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাবের ভূমিকা তুলে ধরেন তিনি।র্যাবের কাঠামো পরিবর্তন বা পোশাক বদলের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শহিদুর রহমান বলেন, “এ নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য—জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা।”পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ীকে মাথায় আঘাত করে হত্যার ঘটনায় র্যাবের ছায়া তদন্তে দুইজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ ১১ টুকরো করার ঘটনায়ও অভিযুক্ত স্বামীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আটক করা হয়।এছাড়া, ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুগামী একটি বিমানে বোমা থাকার গুজব ছড়িয়ে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, এক মা তাঁর বিবাহিত ছেলেকে প্রেমিকার সঙ্গে বিদেশ যাত্রায় বাধা দিতেই এমন কৌশল নেন।‘মব লিঞ্চিং’ বা গণপিটুনি সংক্রান্ত অপরাধে র্যাবের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শহিদুর রহমান বলেন, লালমনিরহাটে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজন এবং কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ও উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন র্যাবপ্রধান। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংক্রান্ত মামলায় ১৭২ জনকে গ্রেপ্তার, পাঁচ শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১০ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।এ সময় মানবপাচার, বন ও জলদস্যুতা রোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৭ জন দস্যুকে গ্রেপ্তার, ৪২ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং মানবপাচার সংশ্লিষ্ট ৭৩ জনকে আটক করা হয়েছে।অপহরণ মামলায় ৫০০-র বেশি অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৭৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে র্যাব। এছাড়া, র্যাবের পোশাক ব্যবহার করে কিংবা ভুয়া পরিচয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ৫০০ জন, হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় ২,২০০ জন, চাঁদাবাজির ঘটনায় ৭২ জন, প্রতারণায় ৪৪ জন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ১১ জন, ডাকাতির ঘটনায় প্রায় ৪০০ এবং মাদক মামলায় প্রায় ৩,৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
