স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল এলাকায় ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিরিয়াস ব্যবস্থা নেয়ার পরও, বিচ্ছিন্ন ঘটনায় দায় বিএনপির ওপর চাপানো অপরাজনীতি এবং এটাকে নোংরা রাজনীতির চর্চা বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ী যুবককে হত্যার ঘটনায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের অভিযুক্ত সদস্যদের আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপরও বিএনপির ওপর দায় চাপানো নোংরা ও অপরাজনীতি।শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে এমনটা জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেন, মিটফোর্ডের ঘটনায় সিরিয়াস ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বিচ্ছিন্ন ঘটনায় দায় বিএনপির ওপর চাপানো অপরাজনীতি, এটা নোংরা রাজনীতির চর্চা। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন কোনো অপরাধীকে কখনো প্রশ্রয় দেয় না, কোনো দিন দেবেও না।দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় জানিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ক্ষেত্রেও (সোহাগ হত্যা) বিএনপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। ইতোমধ্যে হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় করা মামলার আসামি যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহজলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।একই সঙ্গে আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনোরূপ শৈথিল্য না দেখিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে দলটি জানায়, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেন। স্বেচ্ছাসেবক দলও ওই ঘটনার কারণে দুজন নেতাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করেছে।এদিকে, এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই পৈশাচিক ঘটনা কেবল একটি জীবনহানিই নয়— এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গভীর হতাশার বহিঃপ্রকাশ। বিএনপির সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও রাজনীতির সঙ্গে সন্ত্রাস ও বর্বরতার কোনো সম্পর্ক নেই। অপরাধী যেই হোক, তার স্থান কখনোই আইন ও ন্যায়বিচারের উর্ধ্বে হতে পারে না। জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর উল্লিখিত নির্মম ঘটনাটি দেশের মানুষের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত পৈশাচিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনাটির দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের সমাজকে আরও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে।অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, উল্লিখিত ঘটনাটির অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করুন এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনোরূপ শৈথিল্য না দেখিয়ে উক্ত ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছে যুবদল।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
