এসএসসির ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিতু আক্তার রেশি নামে এক পরীক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন। এছাড়াও বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরমিনা আক্তার, আরেক পরীক্ষার্থী।বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল চারটার মধ্যে এই পৃথক ঘটনাগুলো ঘটে।জানা গেছে, মৃত মিতু আক্তার রেশি বালিয়াডাঙ্গী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের দোগাছি ক্ষিরাপুকুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে। তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গণিত, উচ্চতর গণিত ও রসায়ন বিষয়ে ফেল করেছেন।পরিবার জানায়, ফল প্রকাশের সময় বাড়িতে একা ছিলেন মিতু। নিজের মোবাইলে ফল দেখার পর ঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস দেন। মিতুর ছোট ভাই ঘরের দরজা বন্ধ দেখে দৌড়ে মাঠে বাবা-মাকে খবর দিলে বাড়িতে দরজা ভেঙে মিতুকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।মিতুর বাবা রুহুল আমিন জানান, ‘ফল প্রকাশের আগের দিন মেয়েকে বুঝিয়েছিলাম। মেয়ে নিজেই বলল, “কোন সমস্যা নেই বাবা।” আমরা সবাই মরিচ খেতে ছিলাম, নিজে ফলাফল দেখে, নিজেই এমন কাজ করবে কেউ ভাবতেই পারেনি।’এদিকে আত্মহত্যার চেষ্টা করা আরেক শিক্ষার্থী আরমিনা আক্তার জেলার চৌরঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিনি মানবিক বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ে ফেল করেছেন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, আরমিনা আক্তার এক বিষয়ে ফেল করায় বকাঝকা করেছিলেন মা। অভিমানে ঘরে থাকা তরল বিষ পান করে বমি করতে শুরু করে সে। দেখেই বুঝতে পারে সে বিষপান করেছে। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আহাদুজ্জামান সজিব জানান, ‘মিতু হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছে। আরমিনাকে ওয়াশ করে বিষমুক্ত করা হয়েছে। ভর্তি করা হয়েছে। আমরা নজরে রেখেছি।’বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে।’ এছাড়া অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
