বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষায় যুক্ত হলো আরেকটি নতুন অধ্যায়—বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের অংশ হিসেবে ৩৬ জন নারী নবীন সৈনিক আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে সৈনিক জীবনে পদার্পণ করেছেন। বীরত্ব ও দায়িত্বশীলতার শপথে নারী সৈনিকদের এ অংশগ্রহণ সীমান্ত রক্ষায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এই ঐতিহাসিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি)-এর বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন সৈনিকদের অভিবাদন গ্রহণ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিজিবি মহাপরিচালক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী তৎকালীন ইপিআরের ৮১৭ জন শহীদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।ভাষণে নবীন নারী সৈনিকদের উদ্দেশে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মহিয়সী নারীদের অবদান ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়। আজকের নারী সৈনিকরা সেই উত্তরাধিকার বহন করে সীমান্ত রক্ষায় অগ্রবর্তী হচ্ছেন। তারা শুধু বাহিনীর সম্পদ নয়, বরং দেশের অহংকার।তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নবীন নারী সৈনিকরা বিজিবির সার্বিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আরও গতি আনবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।সকাল সাড়ে ৯টায় সশস্ত্র সালাম প্রদানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বিজিবির নবীন নারী ও পুরুষ সৈনিকরা চৌকস কুচকাওয়াজে অংশ নেন। দৃপ্ত পদচারণায় তারা জানান দেন—বাংলাদেশের সীমান্ত এখন আরও নিরাপদ হাতে।এই ১০৩তম ব্যাচে ৬৫৮ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী, সর্বমোট ৬৯৪ জন নবীন সৈনিক দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের কঠোর মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে এই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। তাদের কুচকাওয়াজে ছিল সততা, শৃঙ্খলা, বীরত্ব আর জাতীয় দায়িত্ববোধের পরিপূর্ণ প্রতিফলন।নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। যে সৈনিক কর্তব্য পালনে কখনো পিছপা হয় না, তিনিই প্রকৃত সৈনিক। তিনি নবীনদের সততা, আনুগত্য, বুদ্ধিমত্তা, উদ্দীপনা ও মনোবল দিয়ে সীমান্ত রক্ষায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।তিনি আরও বলেন, দেশ মাতৃকার অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজন হলে প্রাণ দিবে—তবু দেশের এক ইঞ্চি মাটিও ছাড়বে না আমাদের সৈনিকেরা।অনুষ্ঠানের শেষে বিজিবি মহাপরিচালক ১০৩তম ব্যাচের সেরা চৌকস রিক্রুট বক্ষ নম্বর-৫৭৪ সাইফ মিয়া সহ বিভিন্ন বিষয়ে সেরা নবীন সৈনিকদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন।এরপর বিজিবি’র প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে ট্রিক ড্রিল ও ব্যান্ড ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়।অনুষ্ঠানে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
