পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় গত সাত দিন ধরে বিরামহীন বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে গেছে। উপস্থিতি কমেছে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের। রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে পানি জমে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমজীবী মানুষ বের হতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। মানুষ খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। অফিসপাড়া চলছে ঢিলেতালে। দোকানপাটগুলো খুলেছে নিত্যদিনের চেয়ে অনেক দেরিতে। খাল ও নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ কষ্টে দিন পার করছেন।উপজেলার ৪নং নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা বেগম বলেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নেই বললেই চলে। মাঠে পানি জমে গেছে। পানি না কমলে দুর্ভোগ আরো বাড়বে। পূজা কর্মকার নামে এক অভিভাবক বলেন, মুষলধারে বৃষ্টির কারণে শিশু শ্রেণিতে পড়ুয়া তার মেয়ে শ্রীময়ীকে কয়েক দিন ধরে বিদ্যালয়ে পাঠাননি। চরবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরঅডেল গ্রামের কৃষক হাসেম ফরাজি বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে কোলা-বিল ডুবে বসতঘরের মধ্যে পানি ঢুকে দুর্ভোগ বেড়েছে। দাসপাড়া গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, ১৫ দিন আগে ৭ মন বীজের আমন বীজতলা করেছিলাম। এর আগের বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে আবারো ৫ মন বীজতলা করলে সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে তাও তলিয়ে গেছে। কালাইয়া বন্দরের রিঙ্ চালক হোসেন মোল্লা বলেন, রিঙ্ নিয়ে বের হই ঠিকই, কিন্তু রাস্তা ঘাটে কোন লোকজন না থাকায় গত সাত দিন ধরে কোন কামাই নাই। ধার দেনা করে চলতে হচ্ছে। দাসপাড়ার চৌমোহনী গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, তার চারটি মাছের ঘের। ঘেরে পানি বেড়ে যাওয়ায় নেট-জাল দিয়ে চারপাশে আটকিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা করছেন।উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর জেনেছি। মাছ চাষিদের ঘের রক্ষা করার জন্য আগে থেকেই নেট-জাল কিনে সংরক্ষণ করার জন্য বলা হয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, বিরামহীন বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে ক্ষতি হবে আমন বীজতলার। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হবে তা বৃষ্টির প্রভাব না কমলে হিসাব করা যাবে না। কৃষক ভাইদের বলা হয়েছে, বীজতলা যতটা সম্ভব অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে করতে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে বীজের কোন সংকট হবে না বলে আমার বিশ্বাস।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
