কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগে স্থানীয় বাসিন্দারা। গত কয়েক মাস ধরে একের পর এক সহিংস ঘটনায় হতাহত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। সর্বশেষ, ইউনিয়ন পরিষদের এক জনপ্রিয় সদস্যের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।সম্প্রতি আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে মাত্র এক সপ্তাহে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায়। প্রথমে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান এক গৃহকর্তা, এরপর মাদকের প্রভাবে বাবা নিজেই হত্যা করেন চার বছরের শিশু কন্যাকে।সবশেষ মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে মনখালী পাহাড়ি ছরা থেকে বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন দূর্জয় ওরফে কামাল মেম্বারের মরদেহ। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর এমন লোমহর্ষক দৃশ্য দেখে হতবাক স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।নিহত কামাল হোসেন (৪০) জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৭ জুলাই) রাতে তিনি নিখোঁজ হন। সারারাত খোঁজ করেও সন্ধান মেলেনি। পরদিন দুপুরে স্থানীয়রা পাহাড়ি ছরার পাশে বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে।স্থানীয়দের ভাষ্য, কামাল মেম্বার ছিলেন সাহসী ও জনদরদী এক জনপ্রতিনিধি। ইউনিয়নের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। কেউ কেউ বলছেন, তার এই স্পষ্ট অবস্থানই হতে পারে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ।এলাকার বাসিন্দা মো. ইউসুফ বলেন, ‘এটা আর শুধুই খুন নয়, পুরো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রশাসন কী করছে, সেটা এখন বড় প্রশ্ন।’স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় ডাকাতি, খুন ও মাদক কারবার বেড়েই চলেছে। কিন্তু পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তারা বলছেন, এই তিনটি খুনের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।এদিকে উখিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ অফিসারদের কড়া নির্দেশ দেওয়া আছে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি না হয়। তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, শুধু নির্দেশনা যথেষ্ট নয়। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না করলে উখিয়া আবারও পরিণত হতে পারে মাদক ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
