ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিপন্ন প্রজাতির একটি মুখপোড়া দলছুট হনুমান লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনো গাছের ডালে আবার কখনো ঘরের চালে কিংবা মাটিতে বসে খেলা করছে হনুমানটি। বনের হনুমান লোকালয়ে আসায় দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।সোমবার (০৭ জুলাই) বিকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম বাজারে দেখা গেছে বিলুপ্ত এই বন্যপ্রাণীটি। এর আগে গত শুক্রবার থেকে ওই এলাকায় হঠাৎ হনুমানটির আগমন ঘটে।সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকাবাসী কলা, বিস্কুট, কেক যা ছুঁড়ে দিচ্ছে সেটাই গ্রহণ করছে হনুমানটি। কেউ প্রাণিটির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নানাভাবে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করছে। আবার কেউবা কারণে-অকারণে প্রাণিটিকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ছেন। ফলে প্রাণের ভয়ে নিজের স্থান বারবার পরিবর্তন করছে হনুমানটি।হনুমানটিকে দেখতে আসা জাটিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসাইন মোল্যা বলেন, ‘আমি হনুমানটিকে দেখার জন্য বাজারে এসেছি। তাকে দুইটি কলা কিনে খেতে দিয়েছি।’জাটিগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান বলেন, ‘হনুমানটি খাবারের জন্য মানুষের একেবারে কাছাকাছি চলে আসে। এমনকি কেউ কলা বা পাউরুটি দিলে সেটি হাতে নিয়ে খায়।’স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘এলাকায় হঠাৎ করে হনুমানটির আগমন ঘটে। হনুমানটি খুবই বড় ও দেখে খুব ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছিল। এটি খাবারের আশায় বারবার মাটিতে নেমে আসার চেষ্টা করছিল। কিন্তু মানুষের ভিড় দেখে আবার ভীত হয়ে ঘরের চালে ও গাছের ডালে উঠে আশ্রয় নেয়।’স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, ‘হনুমানটির মধ্যে শান্ত ভাব আছে। কারো কোনো ক্ষতি করেনি। প্রকৃতির বিরূপ পরিবর্তনের ফলে বন্যপ্রাণীরা এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া বন উজাড় হয়ে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থলও সংকুচিত হয়েছে। তাই এসব বন্যপ্রাণী খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে। তবে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে নয়, সংরক্ষণের দাবি করেছেন তিনি।’দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসা হনুমানের কোনো ক্ষতি বা বিরক্ত না করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন বলেন, ‘বাংলাদেশে বিপন্ন তালিকায় স্থান পাওয়া প্রাণীদের একটি হনুমান। এরা দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করা বৃক্ষচারী শান্তিপ্রিয় প্রাণি। কিছুদিন পর আপনা-আপন সে তার আবাসস্থলে ফিরে যাবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
