কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: লিটন মিয়ার ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অপকর্মের নানা দিক তুলে ধরে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।বুঝবার (০২ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ওসির বিরুদ্ধে ‘মাদক সম্রাট ওসির প্রত্যাহার চাই’, ‘ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ ওসির বিচার চাই’, ‘জুতা মারো তালে তালে’, ‘ওসি লিটনের দুই গালে’ সহ নানা স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী কমলা বেগম, দীন ইসলাম, জেলা যুবদল নেতা ফারুক। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সহসম্পাদক ওমর ফারুক, শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া, গুরুদয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাহিম সাদ, ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুলসহ এলাকাবাসীরা।মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ ওসি লিটনের অপসারণ ও বিচারের দাবি করে বলেন, মামলাবাণিজ্য, বিচারপ্রার্থীর সঙ্গে খারাপ আচরণ, হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা আদায়সহ নানা অপরাধ কর্ম করছেন ওসি লিটন মিয়া। তার অপরাধকর্ম এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষও বাড়িঘরে থাকতে পারছে না। যাকে তাকে মামলার ভয় দেখিয়ে থানায় আটকে রেখে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও মাদক কারবারিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মাসোয়ারা নেন। ওসি লিটনকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।এ সময় আঠারোবাড়ি এলাকার ভুক্তভোগী দ্বীন ইসলাম বলেন, পৈত্রিক গাছ কাটা নিয়ে রেলওয়ে পুলিশ বাড়ি গিয়ে থানায় আসতে বলে, এরপর রেলের মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে তাদেরকে ৫ হাজার টাকা দিলে গাছ কাটতে আর সমস্যা নেই বলে ফোন করে জানান ওসি লিটন।কমলা বেগম বলেন, গাছ কাটতে বাঁধা দিয়ে বলেন থানায় আসতে। থানায় আসার পর ৫ ঘণ্টা জিম্মি করে টাকা দাবি করলে ৩ হাজার টাকা দিলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এরপর আমার মেয়ের জামাই মোবাইল থেকে ২ হাজার টাকা তুলে মোট ৫ হাজার টাকা দিলে আমাদের জানায় গাছ কাটতে আর সমস্যা নেই বলে ওসি লিটন জানান।স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, আওয়ামী লীগ চলে গেলেও তাদের দোসররা এখনো বহাল তবিয়তে থেকে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আওয়ামী দোসর লিটন ওসি সাধারণ মানুষদের মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া থেকে শুরু করে মাদক কারবারির বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়াসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যে করে নাই। অবিলম্বে ওসি লিটনের বিচার চাই।অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ লিটন মিয়া বলেন, কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানায় যোগদানের পর থেকে টিকেট কালোবাজারি, মাদকের বিরুদ্ধে ও স্টেশন মাস্টারের উপর অতর্কিত হামলার বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করায় একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বিগত দিনে আঠারোবাড়ির গাছ কাটার বিষয়টি কেন্দ্র করে আজকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে। মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমাকে এখান থেকে বদলি করাতে পারলে তারা পুনরায় টিকেট কালোবাজারি ও মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলতে পারবে।এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) ‘সময়ের কণ্ঠস্বরে’ ‘বসতবাড়ির গাছ কাটতে বাধা, ওসির বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ’ এ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের নজরে আসে। পরে তাৎক্ষণিক তিনি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেন।উল্লেখ, কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার আওতাধীন আঠারবাড়ি রেল স্টেশনের নিকটে উত্তর বনগাঁও এলাকার রতন মিয়া বসতবাড়ি অবস্থিত। আজ থেকে দশ বছর আগে রতন মিয়া রেলওয়ের সীমানা থেকে সাত ফুট দূরে নিজের মালিকানাধীন বসত বাড়ির চৌহদ্দিতে দুইটি রেন্ট্রি গাছ রোপন করেন। গাছ রোপনের পর উক্ত দশ বছরের মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষের কেউ গাছ লাগানো নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। এ অবস্থায় গত (১৭ জুন) মঙ্গলবার নতুন ঘর নির্মাণের প্রয়োজনে গাছ দুটি কেটে ফেলা হয়। কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার দুইজন পুলিশ সদস্য বাড়িতে এসে রেলের জমিতে গাছ কাটার অভিযোগ এনে থানায় যেতে নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক পরদিন বুধবার রতন মিয়ার প্রতিবন্ধী স্ত্রী কমলা বেগম এবং মেয়ের জামাই দীন ইসলামকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানায় আসেন।থানায় যাওয়ার পর ওসি লিটন মিয়া তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ভয় দেখিয়ে জেল-জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি ও ভয়-ভীতি প্রদান করেন। এ সময় তাদেরকে ওসি লিটনের সাথে থাকা এক পুলিশ সদস্য ১০ হাজার টাকা দিতে বললে কমলা বেগম তিন হাজার টাকা দেন এবং মেয়ের জামাই মোবাইল থেকে দুই হাজার টাকা তুলে মোট ৫ হাজার টাকা ওসি লিটনের হাতে দেন। পরে বাড়ি যাওয়ার পথে মেয়ের জামাই দ্বীন ইসলামকে ওসি মোঃ লিটন মিয়া ফোন দিয়ে বলেন গাছ কাটতে আর কোনো সমস্যা নেই।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
