মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও নারায়ণগঞ্জের চরকিশোরগঞ্জের মধ্যে মেঘনা নদী দিয়ে চলাচলকারী নৌ-রুটে ইজারা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে মেঘনার দুই পাড়ের হাজারো যাত্রী পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে গজারিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি ট্রলারকে মাঝনদীতে আটকে রাখেন চরকিশোরগঞ্জের ইউপি সদস্য মোতালেব মিয়া ও তার অনুসারীরা। তারা ট্রলারগুলোর যাত্রীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকে দুই ঘাট থেকেই ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।জানা যায়, এই নৌরুটে গজারিয়া অংশের ট্রলারঘাটের ইজারা দিয়ে থাকে গজারিয়া উপজেলা প্রশাসন, আর চরকিশোরগঞ্জ অংশের ইজারা দেয় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসন। তবে ১ জুলাই থেকে চরকিশোরগঞ্জ ঘাটের ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। বিষয়টি ঘাট ইজারাকে ঘিরে বিরোধে রূপ নেয়। নতুন ইজারাদার নদীর দুই পাড় থেকেই ইজারা আদায়ের ঘোষণা দিলে তৈরি হয় উত্তেজনা।গজারিয়া উপজেলার যাত্রী আব্দুল খালেক, যিনি প্রতিদিন গজারিয়া থেকে চরকিশোরগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন, তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে ঘাটে এসে বসে আছি। ট্রলার বন্ধ থাকায় নদী পার হতে পারছি না। কর্মস্থলে যেতে না পারায় চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ছে। আমাদের মতো অনেকেই আজ কাজ বা জরুরি প্রয়োজনে আটকে পড়েছেন। এমন ঝামেলা তো মাঝেমধ্যেই হয়। প্রশাসনের উচিত এসব স্থায়ীভাবে সমাধান করা।’আরেকজন গৃহবধূ রোজিনা আক্তার বলেন, ‘চরকিশোরগঞ্জে আমার বাপের বাড়ি, সেখানে অসুস্থ মাকে দেখতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ঘাটে এসে দেখি ট্রলার বন্ধ, কেউ যেতে দিচ্ছে না। ছোট বাচ্চা নিয়ে ঘাটে বসে আছি কয়েক ঘণ্টা ধরে। এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য খুব কষ্টকর। নদীপথ তো গরিব মানুষের একমাত্র ভরসা, সেটাই যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমরা যাব কোথায়?’স্থানীয় যাত্রীরা জানান, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গজারিয়া থেকে চরকিশোরগঞ্জ এবং সেখান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন এই নদীপথে। ট্রলার বন্ধ থাকায় তাদের বিকল্প কোনো যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। অনেকেই কর্মস্থলে যেতে পারেননি, আবার কেউ বাজার বা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই সমস্যা নিরসন করে নৌ-রুটটি সচল রাখার ব্যবস্থা না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।গজারিয়া ট্রলারঘাটের ইজারাদার রিপন মুন্সী বলেন, ‘আমি গজারিয়া উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বৈধভাবে পুরো বছরের ইজারা নিয়েছি। কিন্তু এখন কেউ একজন এসে নদীর দুই পাশ থেকেই টাকা তোলার দাবি করছে। আমাদেরকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’চরকিশোরগঞ্জের ইউপি সদস্য মোতালেব মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলি এবং ট্রলার চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ট্রলার চালু করার নির্দেশনা প্রদান করি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের লক্ষ্যে আজ দুপুরে উভয় পক্ষকে গজারিয়া উপজেলা পরিষদে ডাকা হয়। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—যেভাবে পূর্বে ট্রলারঘাট ইজারা দেওয়া হয়ে আসছে, সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে টাকা উত্তোলন করা হবে। গজারিয়া অংশের ট্রলারঘাটের ইজারাদার এবং মেঘনা নদীর চরকিশোরগঞ্জ অংশের ইজারাদারগণ যার যার নির্ধারিত এলাকা থেকে নির্ধারিত নিয়মে রাজস্ব আদায় করবেন।’তিনি আরও জানান, এ সময় বিআইডব্লিউটিএ পোর্ট অফিসার রেজাউল করিম ও গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। সবার সমন্বিত সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
