বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আয়োজিত তিন দিনের ‘নেক্সট গ্লোবাল স্টার’ প্রোগাম শেষ হয়েছে। এতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ৪৯ জন তরুণ ফুটবলার অংশগ্রহণ করেন। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, প্লেয়ারদের নিবেদন—সব মিলিয়ে পুরো আয়োজনটি রূপ নিয়েছিল এক উৎসবমুখর ফুটবল উৎসবে। আর এই আয়োজনেই উঠে এসেছেন কয়েকজন তরুণ, যাঁরা হতে পারেন বাংলাদেশের ফুটবলের আগামী দিনের ভরসা।হামজা চৌধুরী, সামিত শোমদের মতো তারকা ফুটবলাররা লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানোর পর প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করে বাফুফে।একনজরে দেখে নেওয়া যাক বাফুফে আয়োজিত এই ট্রায়ালের আলোচিত ১০ ফুটবলার। যারা ভবিষ্যতে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন-১) বিটুশোক চাকমা (যুক্তরাষ্ট্র)বাফুফে আয়োজিত এ ট্রায়ালে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন এই লেফট উইঙ্গার। শেষ দিনের ম্যাচে দুর্দান্ত এক গোল করে জয় করেন গ্যালারিতে দর্শকদের মন। শারীরিক শক্তি, স্পিড, বল কন্ট্রোল—সব মিলিয়ে ছিলেন অনবদ্য।২) তাসিন হোসেইন (সুইডেন)১৫ বছর বয়সেই সুইডেনের ইউরগর্ডেন্স আইএফ একাডেমিতে জায়গা করে নেওয়া এই উইঙ্গার ছিলেন অসাধারণ ছন্দে। পেস, ড্রিবলিং আর বল কন্ট্রোলে ছিলেন নজরকাড়া।৩) জায়ান আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র)জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির ফুটবলার জায়ান স্পেন ও ডেনমার্কে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন এ ফুটবলার। তাছাড়া মাঠে পরিস্থিতি অনুযায়ী তার মাথা ঠান্ডা রাখা এবং পরিপক্বতা সবার নজর কেড়েছে।৪) তোফায়েল তানিম (ইংল্যান্ড)ইংল্যান্ডের বাসিলডন ইউনাইটেড এফসির লেফট ব্যাক। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার এই ডিফেন্ডার প্রীতি ম্যাচে ট্যাকলিং ও শরীরী উপস্থিতিতে নজর কেড়েছেন।৫) কাসপার হক (ইংল্যান্ড)৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এই সেন্টার ব্যাক ছিলেন প্রতিপক্ষের আতঙ্ক। একাধিক ক্লিয়ারেন্স ও ফিজিকাল ডিফেন্ডিংয়ের দিক দিয়ে রেখেছেন গভীর ছাপ।৬) আমির সামি (যুক্তরাষ্ট্র)বার্সেলোনার লা মাসিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের ট্রায়াল দেওয়া এই তরুণ ছিলেন বল কন্ট্রোলে দুর্দান্ত। মাঠে তাঁর সাইড চেঞ্জ ও কাটব্যাকের ছন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো।৭) ইব্রাহিম নেওয়াজ (ইংল্যান্ড)মাঠের মাঝখানে ছিলেন প্লে-মেকারের ভূমিকায়। নিখুঁত পাসিং, আক্রমণ সাজানো আর ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছে।৮) সামির মিয়া (ওয়েলস)ছোট গড়নের হলেও গতি আর বল নিয়ন্ত্রণে ছিলেন অসাধারণ। ওয়েলসের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব গোয়েত্রে ইউনাইটেডের রিজার্ভ টিমের এই খেলোয়াড় স্পেস তৈরি ও কুইক পাসিংয়ে ছিলেন দক্ষ।৯) ওয়াইস নক্ষত্র (যুক্তরাষ্ট্র)নামের মতোই খেলা। মিডফিল্ডে দ্রুত ডিসিশন মেকিং ও দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সামিরের সঙ্গে তাঁর সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো।১০) ইমান আলম (ইংল্যান্ড)অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে পুরো ৬০ মিনিট খেলে একাধিক আক্রমণের সূচনা করেন। কেউ কেউ মজা করে তাঁকে ডাকেন ‘বাংলাদেশি নেইমার’। যদিও গোল পাননি, কিন্তু প্রভাব ফেলেছেন দারুণভাবে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
