কাগজে-কলমে ‘ফেভারিটের তকমা’ নিয়েই ক্লাব বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করেছিল ইন্টার মিলান। ইউরোপের নামকরা ক্লাব, দলে তারকাও কম নেই। গত কয়েকদিন আগেও দলটি খেলেছিল ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। আর সেই দলটিকেই শেষ ষোলো থেকে বিদায় করিয়েছে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্স। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে যখন ম্যাচ শুরু হয়, তখন কেউ হয়তো ভাবেনি—ইন্টার মিলান ৯০ মিনিট পর মাঠ ছাড়বে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে। কিন্তু বাস্তব ঠিক সেটাই হলো। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জার্মান কানোর তৃতীয় মিনিটের গোলে এগিয়ে যায় ফ্লুমিনেন্স। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটিকে।পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখলে ছিল ইন্টারের নিয়ন্ত্রণে। ৬৯ শতাংশ সময় বল ছিল ইউরোপীয় জায়ান্টদের পায়ে। কিন্তু ফুটবলে গোলই শেষ কথা। সেই কথারই প্রমাণ মিলল যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে। ফ্লুমিনেন্সের হারকিউলিস পেরেইরা দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচে ইন্টারকে শেষ করে দেন একেবারে।ফ্লুমিনেন্সের এই জয়ে ক্লাবটি পা রাখল ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। প্রতিপক্ষ? ম্যানচেস্টার সিটি আর আল-হিলালের মধ্যকার জয়ী দল।ইন্টার চেষ্টার কমতি রাখেনি। লাউতারো মার্টিনেজ, মার্কাস থুরামদের নামের ঝলক থাকলেও গোলের দেখা মেলেনি। ডিমার্কোর শট পোস্ট ঘেঁষে চলে যায় বাইরে। অন্যদিকে ফ্লুমিনেন্সের গোলবারে ৪৪ বছর বয়সী ফ্যাবিও ছিলেন অবিচল প্রাচীরের মতো। থিয়াগো সিলভার নেতৃত্বে জমাট রক্ষণ, মাঝমাঠে বিচক্ষণ পাসিং—সব মিলিয়ে ম্যাচটা যেন ছিল ব্রাজিলিয়ান অভিজ্ঞতার এক মৃদু প্রদর্শনী।ম্যাচশেষে ফ্লুমিনেন্স কোচ রেনাতো গাউচো বলেন, ‘আমরা জানি ইন্টার কতটা বড় দল, কিন্তু মাঠে আমরা ভয় পাইনি। এখানে অর্থ নয়, মনোযোগ আর সংগ্রামই আসল।’ইন্টারকে হারিয়ে এবার নতুন স্বপ্নে বুক বাঁধছে ফ্লুমিনেন্স। আর ইন্টার? তাদের অপেক্ষা আবার নতুন করে শুরু করার।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
